চট্টগ্রাম সংবাদদাতাঃ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে।
এই বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ডিজেলের দাম বাড়ায় ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পরিবহন বেড়েছে। একই সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়েছে এই বাজারে। আগে যে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা ছিল, এখন সেখানে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিজেলের দাম একবারে লিটারে ২০ টাকা না বাড়িয়ে দুই-তিন ধাপে বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ত।
জানা গেছে, খাতুগঞ্জ পাইকারি বাজারে মোটা মসুর ডাল ৮০ টাকা, মুগ ডাল ১৫০ টাকা, মটর ডাল ৫৪ টাকা এবং সাদা মটর ৫৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় ছোলা ৯৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেল মণপ্রতি ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সয়াবিন তেল ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি চিনি ১০২ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, আদা ৯৫ টাকা, রসুন ১২২ টাকা এবং ভারতীয় লাল মরিচ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় মিষ্টি মরিচের দাম ৪৪০ টাকা। দেশি মরিচ মানভেদে ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা এবং হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। শরীয়তপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যে গাড়ির ভাড়া আগে ২৫ হাজার টাকা ছিল, এখন সেটি ৩৪ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। বাড়তি পরিবহন ব্যয় পণ্যের দামের ওপরই পড়বে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এর প্রভাব শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ালে শেষ পর্যন্ত ক্রেতারাই চাপের মধ্যে পড়বেন। ভোগ্যপণ্যের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন