বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশালে গবাদিপশুর খামার করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন মো.হারুনার রশিদ নামে এক উদ্যোক্তা। তিনি ১০ টি গরু নিয়ে খামার করে এখন ৬৫ টি গরুর মালিক হয়েছেন। প্রতিদিন তার খামারের গাভী থেকে বিক্রি করেন ২২০ লিটার দুধ। এর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আয় করে সফল খামারী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পাশাপাশি তার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ জন কর্মচারীর। হারুনার রশিদের বাড়ি জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামে।
জানা যায়,হারুনার রশিদ ২০১০ সালে মাত্র ১০টি পশু নিয়ে গবাদিপশুর খামারের যাত্রা শুরু করেন। পরিশ্রম,মেধা দিয়ে তিনি গত দেড় দশকে এখন গড়ে তুলেছেন বিশাল গরুর খামার। এখন তার খামারে ৬৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি গাভী রয়েছে। এই গাভী থেকে প্রতিদিন দুই বেলা ২২০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। ১০ জন স্থানীয় কর্মচারী এসব গরু দেখাশোনা করেন। এই খামারের দুধের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এখানে ছুটে আসেন। পাশাপাশি পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এই খামার থেকে প্রতি বছর তিনি মোটা ংকের টাকা আয় করছেন।
হারুন সাফল্যর স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২১ সালে ‘বাংলাদেশ ডেইরি আইকন’ তালিকায় দেশের সেরা ১০ জনের মধ্যে স্থান পান। বরিশাল বিভাগের সেরা খামারি হিসেবেও তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।
খামারের কর্মচারী জামাল বলেন, ‘আগে বেকার ছিলাম। গত ৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বেতন যা পাই, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই চলছে।’
ঘারুনার রশিদ জানান,ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সেই চিন্তায় ডেইরী খামার করেন। ‘শুরুতে লাভ না হলেও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এখন আমি বেশ ভালো অবস্থানে আছি।
বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলার দুধের চাহিদার প্রায় ৭৮-৭৯ শতাংশ এখন স্থানীয় খামারিরাই পূরণ করছেন। অর রশিদের মতো উদ্যোক্তাদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি ভ্যাকসিন দিয়ে সহযোগিতা করি। একদিনে কোনো খামার বড় হয় না, আধুনিক পদ্ধতি ও ধৈর্যের কারণেই আজ হারুন সফল।
কৃ/স/জয়