স্টাফ রিপোর্টারঃ টানা বৃষ্টিপাত থামার পর সারা দেশের কৃষির ক্ষতচিহ্ন দেখা যেতে শুরু করেছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে ক্ষত বিক্ষত এখন দেশের কৃষি খাত। কোথাও ডুবে গেছে পাকা আউশ ধান, কোথাও নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা। পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে নানা ধরনের উঠতি সহ সবজি খেত। সব মিলিয়ে কৃষি অর্থনীতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে এই অতিবৃষ্টি আর বন্যা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত দেশের ৪৩টি জেলার কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখের বেশি কৃষক।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়লে আগামী কয়েক মাসে খাদ্য সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সবজি ও ধানের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা,বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬টি জেলা। এগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, মেহেরপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী।
ক্ষতিগ্রস্ত এসব জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর। যা সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ৯০ শতাংশেরও বেশি। শুধু এ ১৬ জেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬ জন। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি রয়েছে। এ ছাড়া আদা, হলুদ, পেঁপে ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানিয়েছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনাই এখন অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আমন ধানের বীজ, আগাম শীতকালীন সবজির বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। মূল্যায়ন শেষ হলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলায়। তবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নতুন বীজতলা তৈরির সুযোগ রয়েছে। সরকারি জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করে সেখানকার চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ কাজে বিএডিসি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এখনও ব্যাপক পরিসরে আমন রোপণ শুরু হয়নি। ফলে সময়মতো বিকল্প চারা সরবরাহ করা গেলে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা না দিলে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চাল ও গম আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে সবজি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়বে।
কৃ/স/জয়