কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দাম না পেয়ে ক্ষোভে পানের বরজ ভেঙে ফেলছেন চাষীরা। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর,উত্তর পানান এলাকায় এমন চিত্রই দেখা গেছে। পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ এখানকার চাষিরা সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পুঁজি হারিয়ে সরে আসছেন এ চাষাবাদ থেকে।
জানা গেছে, জেলায় গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৪৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হোসেনপুর উপজেলায় ছিল ৩২ হেক্টর। এখানে লালডিংগি, সাচি, গয়াসুর ও গ্যাচ জাতের পানের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের হিসাব এখনও প্রস্তুত করা হয়নি।
পানচাষিরা বলছেন, হোসেনপুর উপজেলায় প্রায় ৫০০ জন পানচাষি আছেন। এর মধ্যে গোবিন্দপুর ইউনিয়নেই আছেন প্রায় ৪০০ জন। এই এলাকাটি পান চাষের জন্য বেশ উর্বর। লাভজনক অর্থকরী ফসল হওয়ায় যুগ যুগ ধরে এই এলাকায় ব্যাপকভাবে পান চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু দু-তিন বছর ধরে একটি সিন্ডিকেটের কারণে পানচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাজারে যে দাম পাওয়া যায় তাতে খরচের টাকাও উঠছে না। এতে তাদের পুঁজিতে টান পড়েছে।
উত্তর পানান এলাকার পানচাষী আব্দুল কাদির তাঁর পানের বরজ ভেঙে ফেলছেন। তিনি জানান, তিন বছর ধরে ১৮ শতাংশ জমিতে পান চাষ করছেন। সপ্তাহে অন্তত ৪০ বিড়া (১৬০টি পাতায় এক বিড়া) পান তুলতে পারতেন। মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আগে এক বিড়া পান পাইকারি বিক্রি হতো ২০০ টাকায়। এখন তা নেমে এসেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়! এভাবে পানচাষ করা যাবে না। এই তিন বছরে তাঁর দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে মনের ক্ষোভে বরজ ভেঙে ফেলছেন।
গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারে পানের হাট বসে শনি, সোম, মঙ্গল ও শুক্রবার। পানচাষিরা বলেছেন, তারা হাটের দিন জমির পান নিয়ে যান পাইকারদের কাছে বিক্রির জন্য। বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫-২০ জন পাইকার আসেন পান কিনতে। কিন্তু বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট অন্য পাইকারদের পান কিনতে বাধা দেয়। এ কারণে পানচাষিরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, চাষিরা পানের দামের বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, গত মৌসুমে ৩২ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হলেও এবার ৩০ হেক্টরে হয়েছে। তিনি মনে করেন, নিচু এলাকা হওয়ার কারণে এবার আবাদ কমে গেছে। পানের দাম পাচ্ছেন না চাষি অনেকে বরজ ভাঙছেন।
কৃ/স/জয়