মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চিনাবাদাম চাষে ভাল ফরন আর দামে মানিকগঞ্জের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি বছর এ জেলায় ৩,৬৪২ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় বাাদমের ভাল ফলনও হয়েছে। এতে খুশি জেলার কৃষকরা।
জানা যায়, জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে অনাবাদি জমিতে চিনাবাদামের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে এই অর্থকরী ফসল মাঠ থেকে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, সাধারণত বেলে মাটিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে চরাঞ্চলের যেসব জমি সারা বছর পতিত পড়ে থাকত, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু স্থানীয় কৃষক চিনাবাদাম চাষ শুরু করেন। তাদের সাফল্য দেখে এখন অনেক কৃষক যমুনা ও পদ্মা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ করছেন।
জেলায় খরিপ-১ মৌসুমে ৩,৬৪২ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। এখান থেকে ৭,১৫৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে।
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর কালিকাপুরের কৃষক রিফাজ উদ্দিন জানান, তিনি এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন ও দাম পাচ্ছেন।
কৃষক হাবিল উদ্দিন বাসসকে বলেন, চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এটি বেলে ও অনাবাদি জমিতে ভালো জন্মে এবং এতে কোনো সেচের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, চিনাবাদাম এখন চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। বছরে শীত ও গ্রীষ্ম এই দুই মৌসুমে এর চাষ করা হয়।
স্থানীয় বাজারে বাদামের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চরের কৃষকরা মান অনুযায়ী প্রতি মণ চিনাবাদাম ৩হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন।
এখানকার কৃষকদের কাছ থেকে চিনাবাদাম কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এসব এলাকায় আসছেন।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, চরাঞ্চলের বেলে মাটি চীনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী এবং জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলায় এর চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতি বছরই চীনাবাদাম চাষের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়