কৃষি সময়
প্রকাশ : Dec 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কলাপাড়ায় ধান কেনা সিন্ডিকেটের কবলে হাজারো কৃষক


পটুয়াখালী সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধান কেনা সিন্ডিকেটের শিকারে পড়েছে হাজারো কৃষক পরিবার। ধান কাটা, মাড়াই থেকে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। প্রান্তিক কৃষকরা বিক্রির সময় প্রায় ২০০ টাকা কম দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে সিন্ডিকেটের হাত দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ৪৬-৪৮ কেজি ওজনের এক মণ ধান (জাত ভেদে) তারা ৯৬০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য। সিন্ডিকেটের বাইরে বিক্রির সুযোগ না থাকায় তাদের হাতে বিকল্প নেই। শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক পরিবারের ওপর এই সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে।

 

বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড়-বালিয়াতলী গ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি পাঁচ কানি জমিতে ধান উৎপাদন করেছেন। ফলন প্রায় ৩৫০ মণ হলেও নির্দিষ্ট পাইকারের আড়তে বিক্রি করতে হয়েছে। “অন্যত্র বিক্রি করলে সমস্যায় পড়তে হতো। যদি স্বাধীনভাবে বিক্রি করার সুযোগ থাকত, প্রতি মণ অন্তত দুইশ টাকা বেশি পাওয়া যেত,” তিনি জানান। একজন ছোট কৃষক বলেন, “জোরজুলুম থেকে রেহাই নেই। ধান কাটা-মাড়াই করতে নির্দিষ্ট মেশিন ছাড়া অন্য কোথাও গেলে পুলিশি শাস্তির ভয় থাকে। ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ, নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ, ধানখালী, চম্পাপুর, মহিপুর ও টিয়াখালী এলাকায় এমন সমস্যা সর্বজনবিদিত। তবে চাকামইয়ায় এ বছরের চাপ কম ছিল বলে অনেক কৃষক মত দিয়েছেন।

 

কৃষকরা জানান, এক কানি জমি চাষ করতে খরচ পড়ছে ৪৬৫০ হাজার টাকা, ফলন ৭০৯০ মণ হলেও বিক্রি থেকে আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৯৫ হাজার টাকা। নিজের জমি না থাকলে খরচ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা অত্যন্ত দুরবস্থায় রয়েছেন।কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তারা অবগত আছেন, কিন্তু কৃষকরা সরাসরি অভিযোগ করছেন না। “আমরা সমাধানের চেষ্টা করব,” তিনি জানান। কলাপাড়া খাদ্য গুদামের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খামারে ধান কেনার মাত্রা এ বছর মাত্র ২৩১ টন। এতে ৪৬ কেজির মণের দাম পড়ছে ১৪৬৪ টাকা। কিন্তু কৃষকরা বিপুল পরিমাণ ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ৯৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা মণ দরে। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে কমপক্ষে ৩৫ কোটি টাকা।উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

 

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্ধ ২,২৪০ কোটি টাকা

1

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে নতুন ডিজি আব্দুর রহিম

2

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ

3

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

4

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

5

বৃষ্টির মতো উপর থেকে ফসলি জমিতে সেচ পদ্ধতি বিএডিসির

6

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

7

কেআইবি’র কমিটি অবৈধ,কুচক্রি মহল দখলে রেখেছে : ড. রাজ্জাক

8

‘দেশীয় বালাইনাশক শিল্পে টিকে থাকতে কাঁচামালে ৫৮ শতাংশ শুল্ক

9

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

10

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের হাজারো পরিবারে আয় বাড়িয়েছে এফএও

11

নেপালের পর্য টন নগরী পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফল বিক্রেতা প

12

আইএসও সার্টিফিকেশন অর্জন করলো সিনট্যাক্স গ্লোবাল

13

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

14

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

15

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

16

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

17

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

18

চরের কৃষকের লড়াই ও সম্ভাবনার গল্প

19

কৃষককার্ড ও উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব গড়ে তোলায় গুরুত্ব

20