কৃষি সময়
প্রকাশ : Dec 11, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন


নিজস্ব প্রতিবেদক

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান২০ দেশের ধান চাষে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে ঢেঁকি ছাটা চাল হিসেবে এর স্বাদ অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণের কারণে ভোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য চাহিদার পাশাপাশি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে বিনাধান২০এর বাজার মূল্যও যথেষ্ট উচ্চযা কৃষকদের জন্য লাভের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধ এ ধানের পুষ্টিগুণ বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত; প্রতি কেজি চালেই জিংক থাকে প্রায় ২৬.৫ পিপিএমযা সাধারণ ধানের চেয়ে অনেক বেশি। জিংক মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেহের বিভিন্ন কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে সহায়তা করে।

বিনাধান২০ এর চাষ ও সম্প্রসারণে সরকারি অনুমোদন ২০১৭ সালে প্রদান করা হয়। এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (বিনা) কর্তৃক গবেষণা ও উন্নয়ন করা একটি জাত, যা জিংকসমৃদ্ধ হিসেবে বিশেষভাবে উদ্ভাবিত। গবেষণা প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষামূলক চাষ, পুষ্টি মূল্যায়ন ও মাঠ পর্যায়ের ফলাফল যাচাইয়ের পর এই জাতটিকে সরকারি নিয়মে অবমুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বিনা-র গবেষকরা দীর্ঘসময় ধরে কৃষিক্ষেত্রে পুষ্টিসমৃদ্ধ ধানজাত উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। বিনাধান২০এর ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন পুষ্টি পরীক্ষা, ফলন পরীক্ষা ও স্থানীয় পরিবেশে চাষযোগ্যতার ওপর গবেষণা চালিয়ে সফল ফল পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের খাদ্য পুষ্টি বাড়াতে এবং পুষ্টিহীনতার সমস্যা কমাতে এমন জাতগুলো ভূমিকা রাখতে পারেযা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই উন্নতমানের ধানের গাছের জীবনকাল সাধারণত ১২৫১৩০ দিন, এবং এটি আমন মৌসুমে চাষে উপযোগী। বীজ থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় ও ফলনশীলতা অনেক উন্নত হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ হয়েছে, বিনাধান২০ প্রচলিত ধানের তুলনায় ভালো ফলন ও উচ্চ বাজার মূল্য পায়, ফলে কৃষকের আয়ও বেড়ে যায়।

চালের গুণমানও বিশেষভাবে প্রশংসিত। চালের রঙ লালচে ও খাবলে নরম ও সুস্বাদু হওয়ায়বিশেষ করে ঢেঁকি ছাটার পরভোক্তাদের কাছে এটি দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয়েছে। মিল মালিক ও চাল বিক্রেতারা জানান, বাজারে অন্যান্য ধানের তুলনায় বিনাধান২০এর চালের চাহিদা বেশি, এবং এতে কৃষকের লাভের সুযোগও বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জাতের চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে পানিতে ভরপুর জমিতে এ জাতের ফলন ভালো পাওয়া গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বিনাধান২০ ভালো পুষ্টিয়মান, স্বাদ ও ফলনের কারণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের খাদ্য পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, কৃষকের আয়ের বৃদ্ধিতে বিনাধান২০ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি অনুমোদন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিনার পাশাপাশি চাষিদের প্রচেষ্টা এই জাতকে বাংলাদেশের খাদ্যকৃষিতে একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

1

কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে

2

‘দেশীয় বালাইনাশক শিল্পে টিকে থাকতে কাঁচামালে ৫৮ শতাংশ শুল্ক

3

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

4

সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

5

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

6

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

7

কৃষির রেটে খামারে বিদ্যুতের দাবি জোরালো হচ্ছে

8

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

9

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

10

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

11

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

12

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

13

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

14

২৫ ডিসেম্বর দেশে আসছেন তারেক রহমান

15

জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে নেতৃত্বে বাংলাদেশ

16

কেআইবি’র কমিটি অবৈধ,কুচক্রি মহল দখলে রেখেছে : ড. রাজ্জাক

17

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

18

বদলে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মসলার গ্রাম

19

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

20