কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারে মজুদ করা চাষীদের পেঁয়াজ পঁচন লেগেছে। ছত্রাক সহ নানা সমস্যায় এখানে রাখা পেঁয়াজ পঁচে যওয়ায় কৃষকরা চরম ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এতে তারা উৎপাদন খরচ যোগাতেই এখন হিমশীম খাচ্ছেন। 

 জানা যায়, পাবনায় এবার পেঁয়াজ উৎপাদন রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দেড় লাখ টন বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

জেলার অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়ার অধিকাংশ কৃষকের সংরক্ষণ করা পেঁয়াজে পঁচল লেগেছে।  আধুনিক সংরক্ষণাগারের পাশাপাশি সনাতন বাঁশের চাতালে তারা এবার অধিক লাভের আমায় পেয়াজ সংরক্ষিণ করেন। এখানে রাখা পেঁয়াজ দ্রুত পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। 

সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের পেঁয়াজ চাষি মনোয়ার পারভেজ মানিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলে প্রায় ৪০০ মণ দেশি পেঁয়াজ রেখেছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আধুনিক সংরক্ষণাগারে। উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ভালোভাবে সংরক্ষণ করে ধীরে ধীরে বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু আষাঢ়ের শুরুতেই ভেস্তে গেছে সেই পরিকল্পনা। সংরক্ষণাগারে থাকা পেঁয়াজেও ধরেছে পচন, কোথাও ছত্রাক, কোথাও অঙ্কুরোদগম। প্রতিদিনই পচা পেঁয়াজ ফেলে দিতে হচ্ছে আলাদা করে।

শুধু এই কৃষকই নয়। পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র। সংরক্ষণাগার সহ কৃষককের নিজ বাড়িতে রাখা পেঁয়াজও পঁচে যাচ্ছে। চলতি বছর এমনিতেই পেঁয়াজের দাম কম। এরসাথে নতুন করে পঁচন ধরায় পেঁয়াজ চাষীদের সর্বশান্ত করে দিচ্ছে।  

কৃষকরা জানান,সংরক্ষিত দেশি ও হাইব্রিডÑ দুই ধরনের পেঁয়াজের প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উচ্চ ফলনের সুফল পাওয়ার বদলে তারা এখন রয়েছেন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায়। এ বছরের সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয় হলো পচনের সময়কাল। সাধারণত কার্তিক বা অগ্রহায়ণ মাসের দিকে সংরক্ষিত পেঁয়াজে কিছু পচন বা অঙ্কুরোদগম দেখা যায়। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসেই ব্যাপক পচন শুরু হওয়ায় সংরক্ষণ পরিকল্পনাই ভেঙে পড়েছে। এতে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধাপে ধাপে বিক্রির সুযোগও হারিয়ে ফেলছেন তারা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকের আয়-ব্যয়ের হিসাবে।

সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নানের জানান, ‘মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা সন্তোষজনক থাকলেও এখন ঘটেছে দ্রুত দরপতন। বর্তমানে হাটে সবচেয়ে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। আর পচা বা ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের এই অস্বাভাবিক ক্ষতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী নয়। এর সঙ্গে চারা রোপণ বিশেষ করে পেঁয়াজ উত্তোলনের সময়ে বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অনেক পেঁয়াজে অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা থেকে যায়। পরে সংরক্ষণের সময় সেই আর্দ্রতাই পচনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আধুনিক সংরক্ষণাগারগুলোতে বিদ্যুৎনির্ভর বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা থাকলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর থাকছে না।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

1

ইলিশের আকাল খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

2

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

3

গলদা -বাগদা চিংড়ি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উৎপাদন বাড়াতে হবে

4

খুলনায় ১৬ হাজার ৪৬৪ হেক্টর আমন বীজতলা

5

নওগাঁয় আড়তে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

6

জি-৯ কলা চাষে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

7

স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে গড়েছিলেন বাগান

8

৬৫ কচ্ছপ সালদা নদীতে অবমুক্ত

9

বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের জরুরী সহায়তা দেয়া হবে-কৃষি মন্ত্রী

10

সাপের কামড়ে ১৩ জন হাসপাতালে

11

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

12

দেশের তিন পাটকল আবার চালু হচ্ছে

13

রাবার ড্যামের ছিদ্রে ঝুঁকিতে চাষাবাদ

14

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

15

জীবন যুদ্ধে হার না মানা কৃষক সিরাজ শেখের সফলতার গল্প

16

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

17

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

18

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

19

বজ্রপাতে প্রাণ গেলো বাবা ছেলের

20