কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের ভাগ্য বদল

খুলনা সংবাদদাতাঃ 
বাড়ির আঙিনায় ও খামারে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন, উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন রুহুল বিশ্বাস নামে এক উদ্যোক্তা। পাশাপাশি রয়েছে গবাদিপশু খামার,সবজি চাষাবাদ । এসবের মাধ্যমে নিজে শ্রম দিয়ে এখন মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’ ইতোমধ্যে গোটা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়,এই উদ্যোক্তা  কৃষি কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালে সিদ্ধঅন্ত নেন এ পেশায় ভাল কিচু করবেন। সেই মোতাবেক তিনি উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষাবাদ শুরু করেন। পান সফলতা দেখা। এরর তিনি অ্যাকুরিয়ামের সৌখিন মাছের বাজারের ব্যাপক চাহিদা দেখে দুই বছর আগে অর্নামেন্টাল ফিশ চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত বছর তিনটি হাউস, আধুনিক পানির পাম্প এবং ছয়টি পুকুরের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন বিশেষায়িত ‘সৌখিন মাছের হ্যাচারি’।

বর্তমানে তার হ্যাচারিতে মলি, মুন্টেল, কমেন্ট, শেখ পোলার, অ্যাঞ্জেল, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, কৈ-কার্প, বাটারফ্লাই ও টেট্রাসহ প্রায় ২০টি দুর্লভ ও আকর্ষণীয় প্রজাতির রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন হচ্ছে। 

তবে শুধু রঙিন মাছই নয়, তার পারিবারিক ১৬ বিঘা জমিতে রয়েছে মোট ৯টি সুবিশাল পুকুর। এর মধ্যে আটটিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু পুরুষ জাতের (অল-মেল) গলদা এবং একটিতে ‘সিপি’ আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন। 

ঘেরের পাড় বা আইলে ফলানো হচ্ছে থোকায় থোকায় শসা, বরবটি ও লাউসহ নানাবিধ বিষমুক্ত সবজি। শুধু তাই নয়, প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছে গরুর প্রজনন কেন্দ্র, উন্নত বিদেশি জাতের কুকুর পালন এবং বাড়ির ছাদে বাহারি জাতের কবুতর প্রজনন ও বিপণন কেন্দ্র।

ঢাকার কাটাবন থেকে শুরু করে সারা দেশের বড় বড় মৎস্য ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে নিয়মিত মাছ সংগ্রহ করছেন। এছাড়া দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অর্ডার এলে অঙ্েিজন প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে মাছ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। জাতভেদে এসব মাছ প্রতি জোড়া বা পিস ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এভাবে মাছ বিক্রি করে তিনি প্রতি মাসে ভাল টাকা আয় করছেন। যা দিয়ে তিনি নিজের বাগ্য বদল করেছেন। 

উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস জানান, সৌখিন মাছের এ বাজার বছরের ১২ মাসই সমানভাবে সচল থাকে। খামারে বর্তমানে ছয়জন নিয়মিত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের সাথে আমি নিজেও সার্বক্ষণিক শ্রম দিই। সব ধরনের আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা থাকে।

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রিগ্যান জানান,চিংড়ি প্রধান অঞ্চল ডুমুরিয়ায় সৌখিন রঙিন মাছ চাষের ধারণাটি বেশ সম্ভাবনাময়। রাহুল বিশ্বাস যেভাবে পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল-মেল গলদা ও রঙিন মাছের সমন্বিত চাষ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা তার মতো উদীয়মান উদ্যোক্তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৫ জুলাই সব বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন

1

ফসল রক্ষা বাঁধের দুই হাজার ব্লক লুট

2

জিয়া খাল খনন না হওয়ায় ব্যহত চাষাবাদ

3

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

4

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

5

মৎস্য অভয়াশ্রমে ফিরছে দেশীয় মাছ

6

গাজীপুরকে শব্দ দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ

7

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

8

সব বিভাগে ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে: প্

9

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

10

টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার বর্জ্যের দখলে

11

কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

12

১৪ বছরে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২ ভাগ

13

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির

14

সুনামগঞ্জে হাঁস-মাছ-গরু চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে

15

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

16

বিএসভিইআরের নতুন কার্যনির্বাহি কমিটি গঠন

17

‘বাইকুনুর’ আঙুরে স্বপ্ন বুনছেন মুন্না

18

লোডশেডিংয়ে পচে যাচ্ছে আল,চাউল উৎপাদনে ধ্বস

19

কেঁচো সারে ভাগ্য বদল

20