মেহেরপুর সংবাদদাতাঃ
মেহেরপুরে মাচায় চাল কুমড়া চাষাবাদ করে কৃষকরা ভাল ফলন পাচ্ছেন। এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত কুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে সারাদেশে। ফলে কুমড়া বিক্রি করে ভাল আয় করছেন চাষীরা।
চলতি রবি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়ার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ মেট্রিক টন কুমড়ার উৎপাদন হচ্ছে। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন চাল কুমড়া উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। মাচাজুড়ে ঝুলছে থোকা থোকা চাল কুমড়া। আগে অনেক বাড়ির চালা বা ঘরের ছাদে চাল কুমড়ার চাষ করা হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মাচা তৈরি করে মাঠে চাল কুমড়ার চাষ করছেন জেলার অনেক কৃষক।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর চাল কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা ও দামও ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সন্তোষজনক লাভ থাকছে। ফলে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
স্থানীয় কৃষক জব্বার আলী বলেন, মাচায় চাল কুমড়া চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কুমড়া নিয়ে যাচ্ছেন। দাম ভালো থাকায় আমাদের লাভও হচ্ছে।
কুদ্দুস আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, মাচা পদ্ধতিতে এবার আমি দুই বিঘা জমিতে চাল কুমড়ার চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় চাল কুমড়ার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। এতে আমরা কৃষকেরা বেশ খুশি।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত পরামর্শ, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর চাল কুমড়ার উৎপাদন বেড়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, নিয়মিত পরামর্শ, কৃষকদের পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর চাল কুমড়ার উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকদের আমরা চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
কৃ/স/জয়