কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যশোরে বর্জ্য প্লান্টে মিলছে না সুফল

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরে দেশের একমাত্র সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান থেকে মিলছে না কাঙ্খিত সুফল। ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত প্লানটি পরিচালনার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে শহরের অলি-গলিতে জমছে বাসাবাড়ির বর্জ্যরে স্তূপ, যা এখন নাগরিকদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন প্লান্ট এলাকার বাসিন্দারা।

জানা যায়, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের স্বপ্ন নিয়ে ২০১৮ সালে যশোরের ঝুমঝুমপুরে ১৩ দশমিক ২৫ একর জায়গার ওপরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের একমাত্র এ প্লান্টটি নির্মাণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরো শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংগৃহীত বর্জ্য থেকে নিয়মিত জৈব সার, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পরিকল্পনা ছিল শুধু যশোর পৌরসভা নয়, বরং পাশের ঝিকরগাছা পৌরসভা ও নিকটবর্তী এলাকা থেকেও বর্জ্য এনে এখানে প্রক্রিয়াজাত করা। এমনকি সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য দিয়ে তৈরি বায়োগ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহেরও একটি পরিকল্পনা ছিল।

সঠিকভাবে পরিচালনার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্লান্টটি। এ প্রকল্প থেকে পৌরসভার মোট আয় হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ধারাবাহিক লোকসান ও পরিচালনা সংকট কাটাতে গত কয়েক বছর প্লান্টটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে সীমিত পরিসরে কেবল জৈব সার তৈরি হলেও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে পুরো যশোর শহরের অলি-গলিতে ময়লার স্তূপ জমে থাকছে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর পাশে নতুন নতুন ভাগাড় তৈরি হয়েছে। চালুর এক বছরের মধ্যেই থমকে যায় এর মূল কার্যক্রম। বহু আশার আলো দেখানো এ প্রকল্পে এখন সময়ের সঙ্গে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

এমন অবস্থায় শহরের অলি-গলিতে জমছে বাসাবাড়ির বর্জ্যরে স্তূপ, যা এখন নাগরিকদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন প্লান্ট এলাকার বাসিন্দারা। প্রকল্পের সুফল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।

ঝুমঝুমপুর বর্জ্য প্লান্ট এলাকার বাসিন্দা হুমায়ন কবির বলেন, ‘ময়লার সঠিক ব্যবহার না হওয়াতে প্লান্টের ভেতরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলে সেই পানি পাশের এলাকাতে ঢ়ুকে যাচ্ছে। বিষাক্ত ও ময়লা পানি এলাকা দূষিত করছে। ছড়াচ্ছে নানা রোগও।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টা সমস্যার কারন হিসাবে জানান,প্রতিদিন প্রায় ৮০ টন বর্জ্য প্লান্টে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু আধুনিক সেগ্রিগেশন যন্ত্রপাতির অভাব ও বর্জ্য আলাদাকরণ জটিলতার কারণে তারা প্রতিদিন সংগৃহীত বর্জ্যরে মাত্র ১৫ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করতে পারছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, ‘আপাতত আমাদের এ প্রকল্পটি কোনো রকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। সমস্যা সমাধানে বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। কয়েকটি মিটিংও করেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও এটির গতি ফেরাতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

সম্প্রতি প্লান্টটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শনকালে প্লান্টটির বেহাল দশা দেখে তিনি যশোর পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি এটিকে শিগগিরই পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আশ্বাস দেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবনের ৮২৭১ জেলে পাচ্ছেন খাদ্য সহায়তা

1

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

2

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

3

নতুন তিন দেশে এনআডি চালু করতে চায় ইসি

4

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

5

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

6

পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাসা মওকুফ

7

কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

8

জায়গা সংকটে ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

9

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

10

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

11

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

12

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

13

খুলনাঅঞ্চল থেকে ৪৮৮৬ কোটি টাকার রপ্তানী আয়

14

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

15

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনই বড় চ্যালেঞ্জ -কৃষিমন্ত্রী

16

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

17

ইউএনওর কার্যালয় এখন পাখিদের আবাসস্থল

18

বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ফেনীতে দুই ডিলারের জরিমানা

19

মৎস্য প্রাণীসম্পদ খাতে ৪৪৩ কোটি ক্ষতি

20