কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় আঙ্গুর চাষে সাফল্য

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় এবার রাশিয়ান ‘বাইকুন’জাতের আঙুর ফল চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান। তিনি নিজের দুই বিঘা জমিতে এ জাতের আঙুর চাষ করেছেন। ইতেমধ্যে তার বাগানের গাছে থোকায় ধরেছে আঙুর। এই উদ্যোক্তার বাড়ী কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকায়।

জানা যায়,মাত্র ১০ মাস আগে জাহিদ হাসান প্রথম তার নিজের প্রায় দুই বিঘা পাঁচ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রাশিয়ার বাইকুনুর জাতের আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। তিনি নিয়মতি এর পরিচর্যা করেন। ইন্টারনেটে দেখে নানা ধরনের প্রযুক্তিও শেখেন। তার প্রয়োগ করেন এই বাগানে। প্রথমে এলাকার মানুষ এটিকে ভিন্ন ভাবে নেয়। পরে তার বাগানে আঙুর গাছে ভরে গেলে মানুষের মনে কৌতহল জাগে। সঠিক পরিচর্যা, ছাঁটাই, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করায় প্রথম বছরেই আশাতীত ফলন পেয়েছে এই কৃষি উদ্যেক্তা।

এখন জাহিদের আঙুর বাগানে বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হালকা সোনালি রঙের আঙুর। এই ফল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি মিষ্টি ও রসালো। প্রতিদিনই বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কৃষক, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীরা। এখানকার মাটি উর্বও হওয়ায় আঙুরের ফলনও হয়েছে বেশ। 

জাহিদ জানান, আমার বাগানের আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি। বর্তমানে পাইকারি ৩৮০ টাকা এবং খুচরা ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। প্রথম বছরেই ২ লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছি। ভবিষ্যতে ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকেই চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন। বর্তমানে ২০০ ও ২৫০ টাকা দামে দুই ধরনের চারা বিক্রি করছি। আমাদের দেশেই যদি এ আঙুরের চাষ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার বাগানে স্থায়ীভাবে ১৭ থেকে ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। মৌসুমে কাজের চাপ বাড়লে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। একই খামারে তিনি ড্রাগন, কুল ও পেয়ারার চাষও করছেন। তবে অতিবৃষ্টির কারণে এবার প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ জেলার মাটিতে প্রথমবারের মতো বাইকুনুর জাতের আঙুরের সফল উৎপাদন হয়েছে। এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। সঠিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব। উন্নত জাতের আঙুর যুক্ত হলে কৃষির বহুমুখীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। জাহিদ হাসানের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে এ অঞ্চলে আঙুর চাষ লাভজনক খাতে পরিণত হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রোপা আমন আবাদ

1

১৪ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ

2

৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

3

ঢাকা সহ সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

4

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

5

পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট

6

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন

7

হাঁস খামারিদের পথ দেখাচ্ছেন ইয়াসিন

8

মরিচ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

9

মানিকগঞ্জে মাটির উর্বরা শক্তি কমছে

10

রাবিতে চালু হচ্ছে জাপানি ভাষা কোর্স

11

নেত্রকোণায় লাউয়ের বাম্পার ফলন

12

পানের বরজ যেন কৃষকের ‘নগদ ব্যাংক’

13

কাজিপুরে জাম্বুরার ভালো দাম পেয়ে খুশি গাছিরা

14

খামারবাড়ির প্রভাবশালী বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের নেতারা এখন

15

কুমিল্লায় হাসপাতাল ঘরবাড়ীতে পানি

16

বান্দরবানে খাদ্য সংকটে গাইড-মাঝি

17

মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষাবাদ

18

ধানের দাম না থাকায় চাষীরা হতাশ

19

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

20