কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁর চাষীদের অসময়ের আমে বাজিমাত

নওগাঁ সংবাদদাতাঃ 
নওগাঁয় এবার অসময়ের আম বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। এখানকার বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কাটিমন,আশ্বিনা,বারি-৪,গৌড়মতি আম। নাবি জাতের এই আম বিক্রি করে কৃষকরা মৌসুমের প্রথমে কম দামে বিক্রি করা আমের ক্ষতি পুশিয়ে নিচ্ছেন। 

আমের মৌসুম শেষ হলেও নওগাঁর বিভিন্ন বাগানে এখানো উকি দিচ্ছে নাবি জাতের হরেক রকম আম। দিন বদলেছে, বদলেছে আমের মৌসুম আর চাষাবাদের ধরন। কৃষকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের বাগানে এখন নাবি জাতের নানা আম চাষাবাদ করছেন। অসময়ে বাজারে আসে বলে এই আমের এর দামটাও থাকে চড়া। নওগাঁয় এবার নাবি জাতের আম চাষীরা কয়েখগুন বেশি দামে আম বিক্রি কওে বাড়তি আয় করছেন। 

জানা যায়,নওগাঁ জেলায় এবার ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে,। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজারে মৌসুমের শুরুতে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন ছিল। ভরা মৌসুমে পানির দরে আম বেচে যে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। এবার অসময়ের এই আম আজ তাদের মুখেই ফুটিয়েছে চওড়া হাসি। কারণ বাজারে এখন আমের সরবরাহ কম থাকলেও ক্রেতার চাহিদা রয়েছে তুঙ্গে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ভরা মৌসুমের তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি দামে আম বিক্রি করছেন চাষিরা।

জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সাপাহার বাজারে মৌসুম শেষ হয়ে এলেও সেখানে এখন ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়, চারপাশে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। বর্তমান বাজারে মানভেদে প্রতি মণ গৌড়মতি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায়। বারি-৪ ও কাটিমনের দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখাচ্ছে সীমিত পরিমাণে আসা আম্রপালি, যা বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ! পিছিয়ে নেই ব্যানানা ম্যাংগোও, যার দাম উঠেছে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। অসময়ে আমের এমন দাম এখানকার চাষীরা আগে দেখেনি। এবার এই নাবি জাতের আম চাষাবাদ করে কয়েকগুন বেশি লাভ পাচ্ছেন চাষীরা। 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার নাবি জাতের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেমন গৌড়মতি ১ হাজার ২৫০ হেক্টরে, বারি-৪ তিন হাজার ৪৪৫ হেক্টরে, আশ্বিনা ৩৫০ হেক্টর ও কাটিমন ৯৯৫ হেক্টরে চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে শুধু নাবি জাত থেকেই ৭৫ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষকদের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৃষিবিজ্ঞানীদের নীরব অবদান। ২০০৩ সালে বারি আম-৪ এবং ২০১২ সালে গৌড়মতি (বারি আম-১২) উদ্ভাবন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি থাইল্যান্ডের বারোমাসি জাত কাটিমনও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন,আগে দেশীয় আমের মৌসুম তিন মাসেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু নাবি ও বারোমাসি জাতের কল্যাণে এখন তা ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত গড়িয়েছে। যা স্থানীয় কৃষকদের অনেক লাভবান করেছে। 

তিনি উল্লেখ করেন,ইতোমধ্যে নওগাঁর উৎপাদিত প্রায় ১ হাজার ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারেও এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রমাণ দেয়। নিরাপদ উৎপাদন ও আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নওগাঁর নাবি জাতের আম ভবিষ্যতের কৃষিতে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফসলে বরাদ্ধের সার মৎস্যচাষীর পুকুরে

1

বাধ্যতামূলক অবসরে সচিব মিয়ান কৃষিতে রেখে গেছেন নিজস্ব বলয়

2

সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

3

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে কমছে মধু সংগ্রহ

4

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

5

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

6

ভবদহে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

7

১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধ ৮শ’ বিঘা জমি

8

বনে আগুন জ্বালিয়ে তৈরি হচ্ছিল শুঁটকি

9

পাট নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের চাষীরা

10

বর্জ্যে ভরা খালে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

11

দেশে শিং মাছ চাষাবাদ লাভ জনক হয়ে উঠেছে

12

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার

13

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

14

সাতক্ষীরায় জিরার দাম কমেছে

15

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

16

টিস্যু কালচারে জি-নাইন কলার চারা উৎপাদনে সফলতা, সারা দেশে বা

17

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

18

কৃষকের ৬০ শতক জমির কাঁকরোলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্ত

19

পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির অনুমোদন

20