পাবনা প্রতিনিধিঃ দেশের অন্যতম মোহনগঞ্জ-নগরবাড়ি শুশুক অভয়ারণ্যটি এখন চরম সংকটে। নদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার, নৌযান চলাচল, নদী দখল ও অপরিকল্পিত ঘাট নির্মাণের কারণে শুশুকের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পাবনার বেড়া উপজেলার মিঠাপানির গাঙ্গেয় ও ইরাবতি ডলফিন বা শুশুকের এখন ধ্বংসের পথে।
জানা যায়,পাবনায় তিনটি শুশুক অভয়ারণ্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সাঁথিয়া উপজেলার সেলুন্দা-নাগডেমড়া (২৪ দশমিক ১৭ হেক্টর), বেড়া উপজেলার নাজিরগঞ্জ (১৪৬ হেক্টর) এবং মোহনগঞ্জ-নগরবাড়ি। এর মধ্যে আয়তন ও শুশুকের সংখ্যায় মোহনগঞ্জ-নগরবাড়ি সবচেয়ে বড়। মোহনগঞ্জ থেকে নগরবাড়ি পর্যন্ত ৪০৮ দশমিক ১১ হেক্টর এলাকা নিয়ে শুশুক অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর এ ঘোষনা দেয়া হয়।
একটি ঘোষনাতেই সিমাবদ্ধ। এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেখানে অবয়ারণ্য এলাকায় নেই কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, ব্যানার বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম। স্থানীয়রা জানান, অভয়ারণ্য এলাকায় কোনো কার্যকর নজরদারিও নেই। মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যায় শুশুক। কিন্তু তা দেকার কেউ নেই।
স্থানীয় জেলে আবু সাঈদ বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে যমুনা নদীতে মাছ ধরি, কিন্তু কখনো জানতে পারিনি এটা শুশুক অভয়ারণ্য। আগে নদীতে প্রায়ই শুশুক দেখা যেত, এখন খুব কম দেখা যায়। আমাদের মাঝেও শুশুক রক্ষায় কোনো সচেতনতা নেই।
রাজশাহীর বনপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, নদীর নাব্যতা হ্রাস, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে শুশুকের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। অভয়ারণ্য ঘোষণার পরও সেখানে মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে শিগগিরই মাঠপর্যায়ে শুশুক রক্ষায় কার্যক্রম শুরু করা হবে। শুশুক বা ডলফিন হত্যা, পাচার কিংবা ক্রয়-বিক্রয় করা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী দÐনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদÐ বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
কৃ/স/জয়