সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জে আধুনিক মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ সাড়া জাগিয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় কম খরচে এ পদ্ধতির চাষাবাদ করে কৃষকরা অধিক ফলন উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৩০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ হিসেবে ৬০ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী প্লট আকারে মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মলচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত শসা উৎপাদিত হচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন,‘মলচিং’ পদ্ধতিতে সবজি চাষে স্বল্প সময়ে দ্রুত ফলন, কার্যকর আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা যায়। সবজির গুণগত মান উৎকর্ষ হয়। সবজি গাছ থাকে সতেজ। মলচিং পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। । প্লাস্টিক মলচিং ব্যবহারের ফলে জমিতে ক্ষতিকর আগাছার বিস্তার ঘটে না, মাটির ভেজা ভাব ও পুষ্টি উপাদান বজায় থাকে এবং গাছের পরিচর্যা অনেক সহজ হয়ে যায়। এছাড়া শসা সরাসরি মাটির স্পর্শে না থাকায় পোকা-মাকড়ের আক্রমণ যেমন কমে, তেমনি সবজির বাহ্যিক চেহারা ও গুণগত মানও অক্ষুন্ন থাকে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ভালো আয় করার সুযোগ থাকায় অনেক চাষি এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।
উল্লাপাড়ার কৃষক ফজলুল হক জানান, মলচিং পদ্ধতিতে বেগুন ও শসার বাম্পার ফলন পাওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিচর্যা খরচও অনেক কমে গেছে। প্রথম দিকে বেগুন ও শসা বাজারে বিক্রি করে ভালো মুনাফা হলেও, বর্তমানে বাজারে শসার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মণ শসা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সদর উপজেলার কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করে এবার তিনি জমি থেকে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন। চারাগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠার পাশাপাশি একসাথে প্রচুর ফলন দিয়েছে, যা বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম মিলছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন,আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ও বুদ্ধিভিত্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। প্রদর্শনী প্লটের বিস্তার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এই আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সারা জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃ/স/জয়