রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী এখন দেশের প্রধান মিঠা পানির মাছ উৎপাদনকারী অঞ্চল। এখানকার উৎপাদিত মাছ জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ২৫ জেলায়। শুধু দেশ নয়। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও এখানকার প্রত্রিয়াজাত করা মাছ রপ্তানী করা হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য সুত্রে জানা যায়,রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি পুকুরে মাছ চাষাবাদ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৫ লাখ টনের অধিক মাছ উৎপাদন হয় এখান থেকে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ বিভাগ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চাষাবাদের সাথে জড়িত প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। এর মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। যা এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে করেছে শক্তিশালী ও গতিশীল।
রাজশাহী বিভাগে কার্প জাতীয় মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে নাটোর ও নওগাঁ জেলা শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদিন এ অঞ্চল থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ব্যবস্থায় মাছ সরবরাহ করা হয়। কেবল জেলার পবা উপজেলার পারিলা গ্রাম থেকেই প্রতিদিন অন্তত ৫০ ট্রাক মিঠা পানির মাছ রাজধানী ও অন্যান্য শহরে যায়। সন্ধার পর থেকে উত্তরাঞ্চল,ঢাকা সহ বিভিন্ন মহাসড়কে দেখা মেলে এখানকার মাছ বাহী ট্রাকের সারি।
বিশেষ প্রক্রিয়ায় ট্রাকে অঙ্েিজনযুক্ত পানিতে জীবন্ত মাছ সরবরাহের কারণে বাজারে রাজশাহীর মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। ফসল এবং অন্যান্য কৃষি পণ্য থেকে কৃষকরা আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় তারা বাণিজ্যিকভাবে পুকুর খননের দিকে ঝুঁকছেন।
পবা থানার পারিলা গ্রামের মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোশাররফ হোসেন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিশেষ জলীয় পদ্ধতিতে ঢাকায় জীবন্ত মাছ পাঠাচ্ছেন। প্রায় ২২ বিঘা জমিতে তার মাছের পুকুর রয়েছে। তিনি বলেন, একসময় আমাদের ব্যবসা শুধু রাজশাহীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে ভালো ব্যবসার আশায় আমরা ট্রাকে করে ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় জীবন্ত মাছ নিয়ে যাওয়া শুরু করি। এই পদ্ধতিতে আমরা ভালো দাম পাচ্ছি। একটি ট্রাকে করে ১ হাজার ২০০ কেজি মাছ ঢাকার নিউ মার্কেটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং তা প্রায় ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।
মৎস্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রাজশাহীতে আগে মিশ্র পদ্ধতিতে (রুইয়ের পাশাপাশি কাতলা, সিলভার কার্প এবং দেশীয় ছোট মাছ) মাছ চাষ করা হতো, তবে এখন তা পুরো বিভাগজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া পাবদা, শিং, কই ও মাগুরের মতো স্থানীয় প্রজাতির বাণিজ্যিক চাষের পরিধিও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী থেকে নিয়মিত ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানি হচ্ছে।
কৃ/স/জয়