বগুড়া প্রতিনিধিঃ টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে আমন চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। দুই সপ্তাহ ধরে বিলাঞ্চলের পানি বের না হওয়ায় সেখানে বিপুল পরিমাণ জমিতে আমন ধান লাগাতে না পেরে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আদমদীঘী উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের রক্তদহ বিল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাশিমিলা, প্রসাদখালী, দমদমা, সান্দিড়া, কাশিপুর, ঢেকড়া, ছাতনী ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বিলসংলগ্ন মাঠ এবং আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের কদমা, করজবাড়ী, দক্ষিণ গণিপুর, রামপুরা, জোড়পুকুরিয়া ও মণ্ডবপুর গ্রামের নিচু জমিতে পানি জমে রয়েছে প্রায় ১৫ দিন ধরে। ফলে এসব এলাকায় এখনো শুরু করা যায়নি আমন রোপণ।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এরইমধ্যে উঁচু জমিতে আমন রোপণ শুরু হলেও বিল এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।
দমদমা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন ও এমদাদুল হোসেন জানিয়েছেন, শ্রাবণ মাস প্রায় শেষ হলেও এখনো জমিতে চাষ দিতে পারেননি তারা। এতে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান,এ বিলে শ্রাবণ মাসজুড়ে স্বর্ণা-৫ ও বিভিন্ন সুগন্ধি জাতের আমন ধান রোপণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণা-৫ রোপণ করা না গেলে পরে সেই জাতের ধান আবাদ করা যায় না। দেরিতে রোপণ করলে ফলনও কমে যায়।
সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, রক্তদহ বিলে ২২টি শাখা খাল দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের পানি এসে জমা হলেও পানি বের হওয়ার জন্য রয়েছে মাত্র একটি খাল। এ কারণে প্রতি বছরই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুধু আমন মৌসুমেই নয়, ইরি-বোরো মৌসুমেও পাকা ধান পানিতে তলিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের।
স্থানীয়দের দাবি, রক্তদহ বিলের পানি আত্রাই নদে গিয়ে পড়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি পর্যাপ্ত নয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাকা সড়ক নির্মাণ এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মিত ক্রস ড্রেনের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিলসংলগ্ন ফসলি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি রক্তদহ বিল এলাকা পরিদর্শন শেষে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন, বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি উদ্বিগ্ন। রক্তদহ বিল সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাঞ্চন হোসেন জানিয়েছেন, আমন রোপণের এখনও কিছু সময় রয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষকরা চাষ করতে পারবেন। দেরি হলেও অনেক জমিতে সুগন্ধি জাতের ধান আবাদ করা সম্ভব।
কৃ/স/জয়