কৃষি সময় ডেস্কঃ ৬৪ জেলায় গাছ লাগিয়ে আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশী একটি সংস্থা। ওই সংস্থার নাম ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’। এটি বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ। এই সংস্থাকে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বৈশ্বিক সংস্থা জাতিসংঘ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) এই উদ্যোগটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’-এর অংশ হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
দেশীয় এই সংস্থাটির অর্জন কেবল মিশন গ্রিন বাংলাদেশের জন্য নয়। বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সারাদেশের তরুণদের সুসংগঠিত করে প্রতিটি জেলায় পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় প্রজাতির গাছ রোপণ, সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এই সবুজ বিপ্লব পরিচালিত হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে এই গৌরবময় অর্জন প্রমাণ করে যে, সামাজিক ও স্থানীয় রূপান্তরমূলক পরিবেশবাদী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানে উন্নীত হতে পারে।
এই বৃহৎ জাতীয় উদ্যোগটির সার্বিক সাফল্যে এক ঝাঁক স্বনামধন্য পরিবেশবাদী, শিক্ষাবিষয়ক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।
মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি জানান, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ও টেকসই সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমাদের সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক, সাধারণ নাগরিক এবং সহযোগী সংস্থাসমূহের অসামান্য অবদান ছাড়া এই অর্জন সম্ভব ছিল না। এই অর্জন সকলের।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ৫ জুন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নেতৃত্বে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়িত হয়। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ারের সরাসরি অংশগ্রহণে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে দিনভর বৃক্ষের চারা রোপণ, পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে এমন স্থানগুলোতে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এছাড়াও নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছ সংস্থাটি।
কৃ/স/জয়