কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ন্যাড়া হচ্ছে গারো পাহাড়

শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুরের গাড়ো পাহাড়ে বালু এবং পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ন আবারো বেড়ে গেছে। ঝোড়া, ঝরনা ও টিলা কেটে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনে এখন হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। 

জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গারো পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা কালাঘেঁষা নদী থেকেও অবাধে লালবালু ও পাথর উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্নশ্রেণির প্রান্তিক লোকজন দিয়ে এসব বালু ও পাথর উত্তোলন করাচ্ছে। আর মাঝেমধ্যে অভিযানে দুই একজন শ্রমিক ধরা পড়লেও অধরা মূল সিন্ডিকেট। এদিকে অবাধে বালি পাথর উত্তোলনে জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে গারো পাহাড়। বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি নদীগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে, পাহাড় ভেঙে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। ‘একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ সবকিছুই জেনেও নীরব রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানায়, কেবল নদী হতেই নয়- বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয় গহীন পাহাড়ের ভেতর থেকেও। ফলে বর্ষাকালে পাহাড় ধসে যায়। গাছ মরে যায় ও অনেক বড় গাছ শিকড় হারিয়ে উলটে পড়ে যায়। পাহাড়ে থাকা গারো ও কোচ আদিবাসীরা প্রতিবাদ করতে পারে না। জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

জেলার ২৫ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বনভূমি ও পাহাড় এখন ন্যাড়া টিলায় পরিণত হয়েছে। গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ‘আমাদের জনবল একেবারেই কম। তারপর আবার যানবাহনের সংকট। এদিকে কারবারিদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী। সম্প্রতি গজনী বিটে দায়িত্বরত দুজন বন কর্মকর্তাকে কারবারিরা বেধড়ক মারধর করে। আমরা সীমিত জনবল দিয়েই রাতদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুইয়া বলেন, ‘গারো পাহাড়ে বালু-পাথর উত্তোলন ও বনভূমি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বনখেকোদের কোনো ছাড় নয়। বন আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বালু মহল বন্ধ রয়েছে। বালু-পাথর যারা উত্তোলন করছেন তারা অবৈধভাবে করছেন। এ ব্যাপারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

1

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

2

বাউয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

3

রফতানিমুখী বাণিজ্যিক কৃষি : উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ

4

হরিণের মাংস সহ আটক এক

5

বিভেদের জেরে ব্রি’র মহাপরিচালকের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব

6

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

7

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি

8

মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ডক্টর জেড করিমকে সংবর্ধনা

9

নদীতে পাঙ্গাস মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই ব্যবহার ঃ হুমকিতে জলজ জীববৈ

10

চুক্তিতে কৃষিসচিব থাকছেন ওয়াহিদা আক্তার

11

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

12

পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাসা মওকুফ

13

বনে ফিরলো ২৪ পাখি

14

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

15

খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান

16

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

17

খাল খননে ফিরল কৃষির সুদিন

18

বলদা খাল এখন ময়লার ড্রেন

19

অস্তিত্ব সংকটে বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য

20