সিরাজগঞ্জপ্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মন্ডলপাড়া ঠারকেন বিলে জলাবদ্ধতায় ২শ’বিঘা জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বিলটিতে জলাবদ্ধতা থাকায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে না পেরে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
জানা যায়, ঠারকেন বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দীর্ঘ সময় ধরে নামে না। ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকায় ফসল উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে একসময় যেখানে সোনালি ধান আর সবুজ পাটের সমারোহ ছিল। সেখানে এখন দেখা যায় কেবল জলাবদ্ধতা আর কৃষকদের হতাশার দীর্ঘশ্বাস। ফলে শতাধিক কৃষক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষিজমি হারিয়ে অনেকেই ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, এই জমিই ছিল তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু বছরের পর বছর চাষাবাদ করতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষিকাজে ভবিষ্যৎ না দেখে অনেক তরুণ কৃষক বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বাবু বলেন, দ্রুত খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে এই বিশাল কৃষিজমি আবারও আবাদযোগ্য হবে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফিরবে এবং এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিও পুনরুজ্জীবিত হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ঘুড়কা ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া এলাকার ঠারকেন বিলের জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানে সম্ভাব্য উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন