খাগড়াছড়ি সংবাদদাতাঃ
পুকুরের দেশিয় প্রজাতির মাছ চাষ আর পাড়ে পেঁপে চাষাবাদে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন ঈশ্বর চন্দ্র নামে এক উদ্যোক্তা। এই চাষাবাদে তিনি ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার চন্দ্রনাথ চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা।
এই উদ্যোক্তা নিজ গ্রামে পাঁচটি পুকুরসহ চার একর জায়গা তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বতি কৃষি প্রকল্প। যেখানে পেঁপে ও মাছ একসঙ্গে চাষাবাদ করছেন। পাঁচটি পুকুরে অবমুক্ত করেছেন প্রায় ৪০০ কেজি পোনা মাছ। একইসঙ্গে পুকুরের চারপাশে রোপণ করেছেন প্রায় এক হাজার একশ রেড লেডি জাতের পেঁপের চারা। মাত্র ছয় মাসেই প্রত্যেক গাছে আশানুরুপ ফলন এসেছে। এই চাষাবাদে এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে চার লাখ টাকা। পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে পেঁপে ও মাছ বিক্রি করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা।
তার এই উদ্যোগ নিজের আয়ের স্বপ্নই দেখাচ্ছে না, একইসঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে অনাবাদি ও সীমিত জমিতে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় একই জমি থেকে একাধিক আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।
উদ্যোক্তা ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা জানান, ইতোমধ্যে শ্রমিকের মজুরি, লিকজ, পেঁপের চারা, মাছের পোনা ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারবো বলে আশা রাখি।
পানছড়ি উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবস চাকমা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা শুধু শুধু পেঁপে বিক্রি করেই ৮ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় প্রথম বছরেই তিনি ভালো সাফল্য পেয়েছেন। অন্য বেকার যুবকরাও কৃষিতে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারে বলেও তিনি জানান।
পানছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র চাকমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয় তার উদ্যোগ ও আগ্রহ দেখে শুরু থেকে আমি আশাবাদি ছিলাম। পানছড়িতে এভাবে পরিকল্পিতভাবে জলাশয় ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও মাছ বিক্রি করা সম্ভব।
কৃ/স/জয়