কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নাটোরে বারনই নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে

নাটোর সংবাদদাতাঃ 
নাটোরের বারনই নদীতে হঠাৎ করে দেশি প্রজাতির অসংখ্যা মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। যা নদীর পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেকেই এসব মাছ সংগ্রহ করছেন। 

শুক্রবার সকাল থেকে মরে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে শুরু করেন নদী পাড়ের মানুষ। কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত পানি গায়ে লাগার পর চুলকানি শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে নদীতে মাছের মোড়ক দেখা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখাতে এখন পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি স্থানীয় মৎস্য বিভাগের।

নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদীর প্রবাহ। 

স্থানীয়রা বলছেন,বৃহস্পতিবার থেকেই এই নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। নদীর ভেতর কোনও কোনও স্থানে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেছে। পানি দিয়ে ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধ। সকালে নদীর পানিতে আদমরা এবং মরা অবস্থায় মাছ ভেসে উঠতে শুরু করে। মাছ ভেসে ওঠা দেখে নদীর দুই তীরে বহু মানুষ দেখার জন্য ভিড় করেন। 

আবার অনেকে নদীতে নেমে মরা মাছ তুলে বাড়িতে নিয়ে যান।
নলডাঙ্গা ব্রিজ ঘাটের নৌকার মাঝি হবিবর রহমান জানান, সারাদিন তিনি বারনই নদীর পানিতেই নৌকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু দুই দিন হলো নদীর পানি দুর্গন্ধ হয়েছে। সব মাছ মরে ভেসে উঠছে। ভয়ে নদীর পানি মুখেও নিতে পারছেন না তিনি। 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, নদীর প্রাণ প্রকৃতি, মাছ-উদ্ভিদ তরুলতা এবং নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার কথা চিন্তা না করে হরহামেশাই ইচ্ছামতো বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হয়। ফেলা হয় চিনিকলের বর্জ্যও। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদীর পানি দূষণ করে পরিবেশ নষ্ট করা হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে নদী দূষণও বন্ধ হয় না।

নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদের ভাষ্য, পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে দূষণ সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে নদীর পানিতে অতিমাত্রায় গ্যাস হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিকবর্জ্য মিশে বারনই নদীর পানিতে অঙ্েিজনের মাত্রা কমে গিয়ে মাছে মড়ক দেখা দিতে পারে। নদীর মাছ মরে ভেসে ওঠার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা পাননি তিনি।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে তাহেরপুর এলাকার পোলট্রিখামারের বর্জ্য ও রাজশাহী সিটির বর্জ্য এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে অঙ্েিজনের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবো। আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেডিসিন নেই, যন্ত্রপাতিও নষ্ট। কয়েক দিন মানুষকে নদীর পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবিপ্রবিতে পরিবেশ রক্ষার নতুন বার্তা

1

৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষসহ গ্রেফতার ৪

2

বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের

3

রংপুরে বায়োগ্যাসে লাভবান উদ্যোক্তারা

4

ন্যাড়া হচ্ছে গারো পাহাড়

5

লালপুর ডাব বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

6

কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

7

১৭ কচ্ছপ উদ্ধার আটক ১

8

রাজশাহীতে সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

9

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

10

কুড়িগ্রামে সারের দাবীতে কৃষকদের হট্টগোল ভাঙচুর

11

নওগাঁয় আড়তে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

12

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

13

কৃষকের ৩০ শতক জমির পটল গাছ কর্তন

14

খুকৃবির নতুন উপাচার্য আসাদুজ্জামান

15

বৃষ্টি না থাকায় ফসল বাঁচাতে সেচেই ভরসা

16

ওয়ান হেলথ শুধু মুখের কথা নয়, দৃঢ় কমিটমেন্ট প্রয়োজন : ফরিদা আ

17

চরাঞ্চলে অর্গানিক কৃষির সূচনা করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

18

চুয়াডাঙ্গায় প্যাকেট জালিয়াতির দায়ে এগ্রো ফার্মকে জরিমানা

19

চুয়াডাঙ্গায় আনারকলি চাষে সাফল্য

20