চাপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
চাপাইনবাবগঞ্জে কৃষক-কৃষাণীর পারস্পরিক জাতবিনিময়ের মাধ্যমে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৭ জাতের দেশি কলার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ হচ্ছে। নাচোল,তানোর,পবা উপজেলায় জলার ১৪টি গ্রামের ৯০১টি পরিবাওে তিন বছরের মাঠপর্যায়ের গবেষণায় উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক কলার জাত বিনিময়ের তথ্য পেয়েছেন ।
বারসিক ও গ্রিনকোয়ালিশনের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক নেতৃত্বে দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য গবেষণার ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার পবার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের নদীকান্দা গ্রামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ।
গবেষণায় চিনি চম্পা, বিচি, মানিক, জীন, সবরি, আনাচি, জেড, কাঠালী, আনাজি, মনোহর, সাগর, আচিন, লাল কলা বা অগ্নিশ্বর, অনুপম, এঁটে ও মদনাসহ ১৭টি স্থানীয় জাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আনাজি, আনাচি, বিচি, মানিক, সবরি ও চিনি চম্পার বিস্তার তুলনামূলক বেশি।
অনুষ্ঠানে কৃষকেরা জানান, পারস্পরিক চারা বিনিময়ের মাধ্যমে এক এলাকার হারিয়ে যেতে বসা কলার জাত অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার ও মডেল শতবাড়ি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত কুমার সরকার, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকসহ তিন উপজেলার ৬৫ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশি কলার জাতবৈচিত্র্যের সঙ্গে স্থানীয় কৃষিজ্ঞান, খাদ্যসংস্কৃতি ও কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তন ও খরাপ্রবণতার সময়ে স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ভবিষ্যতের নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কৃষক-কৃষাণীর নেতৃত্বে জাতবিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্থানীয় জাতের কমিউনিটি রেজিস্টার তৈরির আহ্বান জানান তারা।
কৃ/স/জয়