কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভাসমান নৌকা হাটে পাট কেনা বেচা জমজমাট

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 
যমুনা নদীর বুকে বসছে এক ব্যতিক্রমী হাট। নৌকার সাথে নৌকা লাগিয়ে বসানো হয়েছে ভাসমান হাট। যে হাটে নৌকার উপরেই কেনা-বেচা হয় হাজার হাজার মণ পাট। যার বিক্রেতা-ক্রেতা সবাই হাটে আসে নদী পথে নৌকায়। শত বছর ধরে এমন ব্যতিক্রমী হাট বসছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া যমুনা নদীপাড়ে। 

যমুনা নদী বধৌত কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৬ ইউনিয়ন সহ পুরো উপজেলায় পাটের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রণোদনা সহ সব রকমের সহযোগীতা করায় কৃষকরা ফলনও পেয়েছেন বেশ ভাল। বাজারে এবার পাটের বাল দাম থাকায় বিক্রি করে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। 

স্থানীয়দের মতে,এ অঞ্চলে ব্যাপক পাটের আবাদ হওয়ার কারনে প্রায় শত বছর পূর্ব থেকেই পাট ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য উপজেলার নাটুয়ারপাড়া যমুনা নদী পড়ে শুরু হয় হাটের। বিশাল যমুনার চারদিকে পানি আর পানি। এই নদী কাজিপুর উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। আশে পাশের লোকের এই নদীপথে নৌকায় হাটে আসেন। নৌকাই এখানকার মানুষের একমাত্র বাহনে। নাটুয়ারপাড়া যমুনার চরে তাই নৌকাতেই এই হাটের প্রচলন শুরু হয। সেই থেকে চলে আসছে এই হাট। সপ্তাহে প্রতি শনিবার ও বুধবার এখানে হাট বসে। ভোর বেলা থেকে হাটে কেনাবেচা শুরু হয়ে চলে সন্ধা অবধি। 

এই হাটে কাজিপুর ছাড়াও পাশের জেলা জামালপুর, বগুড়া ও টাঙ্গাইল জেলা থেকে নদীপথে বিপুলসংখ্যক চাষি ও ব্যবসায়ী হাটে পাট কেনাবেচা করতে আসেন। এক নৌকা থেকে কেনা পাট সরাসরি অন্য নৌকায় তোলা সুবিধাজনক। এতে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের ভোগান্তি দুটোই কমে যায়।

চাষী ও হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন,প্রতি হাটে গড়ে এখানে ১ থেকে ২ হাজার মণ পাট কেনা-বেচা হয়। জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও শেরপুর, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এবং কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকেও বহু ব্যাপারী এখানে পাট কিনতে আসেন। ফলে চাষীরা পাটের ভাল দাম পান। কেনা শেষে ব্যাপারীরা নদী পথেই এই পাট নিয়ে গন্তব্য চলে যান। নদী কেন্দ্রীক এই হাট কে কেন্দ্র করে স্থানীয় নৌকা মালিকদেরও আয় রোজগার হচ্ছে। 

নটুয়ারপাড়া ভাসমান পাটের হাটে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। 

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা নাটুয়ারপাড়ার চাষী ফজল মিয়া,আবুল হোসেন,দিলু সরকার বলেন,পাট বিক্রি করে ভাল দাম পেয়েছি। তবে আগে যারা বিক্রি করেছে তারা বেশি লাভবান হয়েছে। আমরাও লাভবান হয়েছি। প্রতি বছর এই হাটে পাট বিক্রি করি। বাড়ির কাছে হওয়ায় দুরে যেতে হয়না। অল্প খরচে নৌকায় হাটে পাট এনে বিক্রি করতে পারি। 

এই হাটে পাট কিনতে আসা জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পাইকার হাসান আলী ও স্থানীয় চরের ব্যাপারী আবু সামা জানান, নদীপথে লেনদেন সহজ হওয়ায় তারা প্রতি হাটে বিপুল পরিমাণ পাট সংগ্রহ করেন।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান,এ চাষাবাদে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রণোদনা দেয়া সহ মাঠ পর্যায়ে সব রকমের সহযোগীতা দিয়েছি। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পাট কাটতে পারায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া গেছে। ভাল ফলন এব দামে চাষীরা লাভবান হয়েছেন। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাঁচা মরিচের দাম করতে শুরু করেছে

1

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান

2

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

3

উপদেষ্টার ক্ষমতা প্রয়োগ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর!

4

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

5

দুম্বা ও ছাগল পালনে তিন ভাইয়ের সাফল্য

6

সারাদেশে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

7

বনে ফিরলো ২৪ পাখি

8

বাংলাদেশের পাট ভারতের চেয়ে ভাল ঃভারতের কৃষিমন্ত্রী

9

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

10

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

11

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন

12

বজ্রপাতে মারা গেলো দুজন

13

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

14

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

15

মধুপুরের আনারস যাবে পাকিস্তান

16

নার্সভুক্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘নার্সসাব’র সাথ

17

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

18

আদালতে সশরীরে হাজির মহিষ

19

কাজিপুরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

20