কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে আলু চাষীরা লোকশানে দিশেহারা

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটে কোল্ড স্টোরে রাখা আলুর দাম না পাওয়ায় লোকশানে পড়েছেন এখানকার চাষীরা। তারা বলছেন, বর্তমানে দরে আলু বিক্রি করলে তাদের মণ প্রতি ৪শ’ টাকা লোকশানে হবে। এতে তাদের চাষাবাদের খরচই জুটবে না। অন্যদিকে গত কয়েক মাসের হিমাগারের ভাড়ার টাকার জোগান দিতে গিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন আলু চাষীরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমি থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কম। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকা এবং মৌসুমের শেষ দিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফসলহানির প্রভাব বাজারে পড়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে জয়পুরহাটের হিমাগারগুলোতে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকায়। অথচ বীজ, সার, পরিচর্যা ও হিমাগার ভাড়া বাবদ কৃষকের প্রতি বস্তায় সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। এতে প্রতি বস্তা আলু বিক্রিতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্তত ৪৫০ টাকা।

মৌসুমের শুরুতে দাম না পেয়ে লাভের আশায় জেলার ২২টি হিমাগারে ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষকরা; কিন্তু ৪ মাস পরও বাজারে আলুর চাহিদা ও দাম বাড়েনি। বর্তমান আমন ধান চাষের খরচ মেটাতে এই সময়ে উৎপাদিত আলু বিক্রি করতে গিয়ে তা সম্ভব না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় মোকামগুলোতেও আলুর চাহিদা না থাকায় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কালাই উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া হতাশা প্রকাশ করে জানান, গত ৩ বছর ধরে তারা আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে লাভের মুখ দেখার বদলে উল্টো মূলধন হারাতে হচ্ছে।

এই কৃষকের মতো হিমাগারের শীতল ঘরে ৪ মাস ধরে পরম যত্নে আগলে রাখা আলু এখন জয়পুরহাটের কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের শুরুতে লাভের স্বপ্ন থাকলেও আজ তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতি বস্তা আলু বিক্রিতে সাড়ে ৪শ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনে ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার শত শত কৃষক।

বর্তমান আমন চাষের ভরা মৌসুমে বাড়তি খরচের জোগান মেটাতে এই আলু বিক্রি করতে গিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন কৃষকরা, কারণ হিমাগারের ভাড়া তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচটুকুও উঠছে না। লোকসানের এই পাহাড়সম বোঝার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার আলুচাষি (কৃষক) ও ব্যবসায়ীরা।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি হাট নর্থপোল হিমাগারের ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন জানান, মার্চ মাসে সংরক্ষিত ১ লাখ ৮০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৩ হাজার বস্তা বিক্রি হয়েছে। দাম কম থাকায় কৃষকরা আলু তুলতেই আসছেন না। যা হিমাগার কর্তৃপক্ষকেও শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বর্তমানে বাজারে আলুর দাম কিছুটা নিম্নমুখী। তবে আলুর বাজারমূল্য স্থিতিশীল ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। সুতরাং আশা করা যায় আলুর মূল্য বাড়বে, ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাটিরাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ

1

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

2

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

3

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

4

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

5

চরের কৃষকের লড়াই ও সম্ভাবনার গল্প

6

কাজিপুরে দাম না থাকায় কমছে কাউনের চাষ

7

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

8

পাটের গৌরব ফিরিয়ে আনতে গবেষণা চলছে-পট প্রতিমন্ত্রী

9

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম

10

গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল

11

রাজশাহী জেলায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

12

সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক

13

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ

14

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

15

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবার

16

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ভ

17

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ডেউয়া

18

কৃষকের সবজিগাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

19

খামারবাড়িতে কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাঁদা দাবি শেকৃবি ছাত্রদল ন

20