বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ
মাছের ঘেরের চারদিকে পড়ে থাকা ৪০ শতক খালি জায়গায় অসময়ের তরমুজ সহ সবজি চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন জাকির হোসেন নামে এক উদ্যোক্তা। তার দেখাদেখি অন্যরাও শুরু করেছেন এই চাষাবাদ। এর মাধ্যমে ঘেরে মাছ আর পাড়ে ফল সবজি চাষাবাদ করে দুই ভাবে আয় করছেন চাষীরা।
সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বটতলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় জাকিরের মাছের ঘেরের পাশে ৪০ শতক জমি দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে ছিল। সেই জমিতেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় মালচিং পদ্ধতিতে ১ হাজার ২০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেছেন তিনি। এসব গাছে এখন নানা রঙের তরমুজ ধরে ঝুলে আছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। তিন জাতের এই তরমুজগুলো বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রথম বছর হিসেবে ফলন ভালো হয়েছে। চাষ থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তরমুজের পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চারপাশে কাঁচা মরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে ও টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন জাকির। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
উদ্যোক্তা জাকির হোসেন জানান,ফেসবুক ইউটিউব দেখে তার এই চাষাবাদের আগ্রহ জন্মে। প্রতম বছরেই তিনি এমন ভাল ফল পাবেন তা আশা করেননি। কৃষি বিভাগ তাকে সহযোগীতা দেয়ায় এ সাফল্য পেতে তার আরো সহজ হয়েছে।
জাকিরের ক্ষেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ,তরমুজের ক্ষেত দেখে তার ভালো লেগেছে। এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে এভাবে তরমুজ চাষ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলনও ভালো হয়েছে। জমি নির্বাচন, পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আগামী মৌসুমে তিনিও তরমুজ চাষের কথা ভাবছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, পতিত ও অব্যবহৃত জমিকে কৃষির আওতায় এনে বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে জাকির হোসেনের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের আবাদ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন