কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা এখনন জলবায়ু পরিবর্তনের এক জীবন্ত ও ক্ষতবিক্ষত প্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে বিলীন হচ্ছে মানুষের বসতভিটা। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ছে এখানকার মানুষ।
জানা যায়,জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারনে এ উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরারডেইল এলাকার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।সমুদ্রের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শান্ত ও সমৃদ্ধ এই উপকূলীয় গ্রামটি এখন ক্ষত বিক্ষত। প্রতিনিয়ত সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে বিলীন হচ্ছে স্থানীয়দের বসতভিটা। গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই গ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি অনায়াসে লোকালয়ে ঢ়ুকে পড়ছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। নদী ও সমুদ্রের তীব্র ভাঙনে সাইরারডেইল এলাকার অর্ধেকের বেশি পরিবার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হতে হতে এখন আর যাওয়ার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই এই উপকূলের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে এলাকার ভৌগোলিক বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এই নির্দিষ্ট উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর। অথচ ভাঙনকবলিত সাইরারডেইল এলাকার মানুষের সুরক্ষায় স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ুর এই বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু অস্থায়ী বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা।
মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাইরারডেইলের ভাঙন এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার অবহিত করা হয়েছে।
কৃ/স/জয়