বান্দরবান সংবাদদাতাঃ
বান্দরবানের পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লামা উপজেলায় এই পাহাড় কাটা চলছিলো। আদেশে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে লামা উপজেলায় পাহাড় কেটে ইটভাটায় ব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
তার শুনানী শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
আদালত চার সপ্তাহের রুল জারির পাশাপাশি পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জারি করা রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ১৫ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটার মালিকেরা পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছেন।
আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও লামায় ইটভাটা পরিচালনার জন্য পাহাড় কাটার অভিযোগও রয়েছে।
রিটে এইচআরপিবির পক্ষে আবেদনকারী ছিলেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারোই। বিবাদী হিসেবে পরিবেশসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ ১১ জনকে করা হয়েছে।
কৃ/স/জয়