কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কৃষককে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে: জাতীয় কৃষক শক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় কৃষক শক্তির নেতারা বলেছেন, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিল করা হলে সার বিতরণে ডিলারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে । জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী এই কৃষক সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভার মাত্র তিনজন ডিলার যদি রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থনৈতিক ক্ষমতা কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলে তারা স্থানীয় সিন্ডিকেটে পরিণত হতে পারেন। এতে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নষ্ট হবে। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হবে।

বুধবার সার সংকট নিরসন এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নে কৃষকের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় কৃষক শক্তির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।  

বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, নির্ধারিত মূল্যে ও সহজলভ্যভাবে সার পৌঁছে দেওয়া কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম পূর্বশর্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা বর্তমান সরকার সংশোধন করেছে। সংশোধিত নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপের সুযোগ রহিত করা এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ডিলার ইউনিট পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় কৃষক শক্তি। তবে সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।

জাতীয় কৃষক শক্তি বলছে, যথাযথ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে পুরনো মধ্যস্বত্বভোগী কাঠামোর পরিবর্তে নতুন ডিলার সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ, স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে একই গোষ্ঠীর হাতে ডিলারশিপ কেন্দ্রীভূত হলে কৃষকের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনটির মতে, সংশোধিত ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় সর্বোচ্চ তিনজন ডিলার থাকার সুযোগ রয়েছে। এ তিনজনের মধ্যে সমঝোতা হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতাকে একমাত্র ভিত্তি করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক শক্তি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট ও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, সারের সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার দ্রুত সরবরাহ, মজুত ও বিতরণব্যবস্থার তদারকি এবং কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাতীয় কৃষক শক্তি মনে করে, সারের বরাদ্দ একটি ওয়ার্ডের চলমান ফসলের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত। নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের কৃষক যেন সেই ওয়ার্ডের ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার সংগ্রহ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সার বিতরণব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটালাইজ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, স্মার্ট কৃষি কার্ডে কৃষকের জমির পরিমাণ ও সারের চাহিদার তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। তাই একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের যেকোনো ডিলারের কাছে কত সার সরবরাহ করা হয়েছে, কতটুকু মজুত রয়েছে এবং কোন কৃষক কত পরিমাণ সার কিনছেনÑএসব তথ্য দৃশ্যমান করতে হবে। এতে কোনো ডিলারের পক্ষে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা কঠিন হবে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে সার বিক্রি করে আসা বিপুলসংখ্যক খুচরা বিক্রেতার জীবিকার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কৃষক শক্তি। যোগ্য পুরনো খুচরা বিক্রেতাদের নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যারা নতুন ব্যবস্থায় থাকতে পারবেন না, তাদের স্বল্পসুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। বিদ্যমান দোকান ও অবকাঠামোকে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সারের দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় কৃষক শক্তি জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে ডিএপি সারের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ডিলারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষককে হয়রানি করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবিলম্বে ডিলারশিপ বাতিলের বিধান নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাহিদার ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন রংপুরে

1

মেঘনায় ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ

2

কক্সবাজারে বন্যা পাহাড় ধ্বসে মৃত ২৫ঃ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি জমি

3

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

4

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

5

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবার

6

মিনি কোল্ডস্টোরেজ দেখে মুগ্ধ বিদেশিরা

7

চাঁই ফাঁদ ব্যবহারে মাছের বংশ ধ্বংস

8

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

9

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

10

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে-তথ্

11

পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা সুমনের

12

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার

13

বিএডিসিতে মহান বিজয় দিবস পালন

14

ক্যাডেটরা গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী হতে চলছে : মৎস্য ও

15

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকা

16

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

17

কোল্ড স্টোরেজে বিদ্যুতের বিল বাড়ায় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কৃষকের

18

বন্যায় ক্ষত বিক্ষত কৃষি,মৎস্য,প্রাণী খাত

19

যমুনা নদী ভাঙ্গন ও বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ভয়েস অব কাজিপুর

20