টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি কলেজে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কৃষি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্যÑশুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম বেশ সাড়া ফেলেছে।
জানা যায়,২০২৪ সালে মধুপুর উপজেলায় ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষানুরাগী মো.সানোয়ার হোসেন। এই কলেজটি একটি সমন্বিত কৃষি শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আনারস, কচু, আদা, ড্রাগন ফল, কফি ও বনজ গাছের সমাহার। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য খামার ও মাঠপর্যায়ের নানা প্রশিক্ষণ সুবিধা।কলেজটির প্রতিষ্ঠতা মনে করেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের চাকরিনির্ভর করে তুলছে, অথচ শিক্ষা হওয়া উচিত স্বাধীন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী মানুষ গড়ার মাধ্যম। এ প্রত্যয়ে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে, পাখির ডাক আর প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় কলেজটি গড়ে তোলা হয়।
কলেজটিতে ‘কৃষি উন্মুক্ত লাইব্রেরি’ আছে যেখানে কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও পরিবেশবিষয়ক বই সংরক্ষিত আছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠের পাশাপাশি পাঠদানের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি গবেষণা, চারা উৎপাদন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
এ কলেজের রুবেল নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, কৃষিভিত্তিক এই উদ্যোগ আমাদের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছে। পড়ালেখা শেষ করে আমরা নিজেরা উদ্যোক্তা হব এবং কৃষিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।
স্থানীয় যুবক আব্দুল কাদের বলেন, কলেজটি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্যতিক্রমী এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, এখানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফসল উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে পড়ালেখার পাশাপাশি তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। কৃষিতে যে এত বড় সম্ভাবনা আর লাভ রয়েছে, তা ভুলে মানুষ অন্যের অধীনে চাকরির পেছনে দৌড়ায়। তরুণের বাহুবল যদি সঠিক কাজে লাগে, তবে এই দেশে সোনা ফলবে। যারা আমাকে নিয়ে ট্রোল করেছিল বা হেসেছিল, তাদের দেখিয়ে দিলামÑকৃষিকাজ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সফল মানুষও করে।
কৃ/স/জয়