কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরের গ্রামীণ জনপদে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে এক নতুন সম্ভাবনার গল্প। এখানকার পরিবেশবান্ধব বাঁশজাত পণ্য এখন শুধু ঘর সাজানোর উপকরণ নয়, বরং তা ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কুটির শিল্পের এই নীরব বিপ্লব বদলে দিচ্ছে এলাকার বহু মানুষের জীবনযাত্রা।

সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনখুলি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার উদ্যোক্তা হাজীমুল ইসলাম এই পরিবর্তনের একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। একসময় সাধারণ সেলাই মিস্ত্রি হিসেবে সীমিত আয়ে সংসার চালাতেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন তাকে থেমে থাকতে দেয়নি। বাঁশের কাঁচামালের মধ্যে সম্ভাবনা খুঁজে পেয়ে তিনি গড়ে তোলেন একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ, যা বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে রূপ নিচ্ছে।

হাজীমুল ইসলামের কারখানায় তৈরি হচ্ছে বাঁশের ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য। স্থানীয় প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক এসব পণ্য তৈরিতে যুক্ত রয়েছেন, যাদের শ্রম ও দক্ষতায় প্রতিটি পণ্য হয়ে উঠছে মানসম্মত শিল্পকর্ম।

উদ্যোক্তা হাজীমুল ইসলাম জানান, শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। বাজারের অনিশ্চয়তা, কাঁচামাল সংকট আর সীমিত সুযোগের মধ্য দিয়েই পথচলা শুরু হয়েছিল তার। তবে অনলাইন মাধ্যমের ব্যবহার, স্থানীয় ক্রেতাদের আস্থা এবং মানসম্মত উৎপাদনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি পৌঁছে যান রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে।

হাজীমুলের এখন লক্ষ্য আরও বড়। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে তিনি এই ক্ষুদ্র উদ্যোগকে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে চান। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, নতুন নকশার পণ্য উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরিই তার প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যেতে পারে। বিসিকের পক্ষ থেকেও তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুপারিশ করা হবে।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ায় বাঁশজাত সামগ্রীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। স্বল্প উৎপাদন খরচ, প্রাকৃতিক উপকরণ এবং নান্দনিক নকশার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। সৈয়দপুরের এই কুটির শিল্প এখন শুধু একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং হয়ে উঠেছে আত্মনির্ভরশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কৃ/স/জয়


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জলবায়ু প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর টিকে থাকা কঠিন

1

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

2

উপদেষ্টার ক্ষমতা প্রয়োগ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর!

3

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

4

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

5

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও দূষণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের আহ্ব

6

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

7

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

8

রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে নতুন রুপ দেয়া হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ

9

বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের জরুরী সহায়তা দেয়া হবে-কৃষি মন্ত্রী

10

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার

11

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার

12

আইএসও সার্টিফিকেশন অর্জন করলো সিনট্যাক্স গ্লোবাল

13

রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি

14

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

15

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিনার জাত বিষয়ে নির্দেশনা

16

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব : অর্থমন্ত্রী

17

মেহেরবানি করে চাঁদাবাজি করবেন না, রাজশাহীতে কর্মী সম্মেলনে জ

18

ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করতে হবে-রিজভী

19

ব্রি’র অর্গানিক সার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে ইউরিয়ার ব্যবহার

20