কৃষি সময়
প্রকাশ : Dec 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

অনেক স্বপ্ন নিয়ে মাসের পর মাস চেষ্টার ফসল অবশেষে মাঠ ভরে গেছে সেই সোনালি ধানে। আমন কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে। নতুন ধান ঘরে উঠলেও বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের মনে নেই কোনো উৎসাহ। ডিসেম্বর মাস চলছে। সার-কীটনাশকসহ দোকানে দোকানে চলছে হালখাতা। বর্তমানে আমন ধানের দর বাজারে একেবারে নিম্নমুখী। এতে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছে। বাজারে দাম কম হওয়াই হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। আমনের কাটা-মাড়াইয়ের শুরুতেই সরকার আমনের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার ৩৬০ টাকা দরে। সরকারিভাবে আমন কেনাও শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারের বেঁধে দেওয়া দর বাজারে প্রভাব পড়ছে না। বর্তমানের বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। যা গত বছর এ সময় প্রতি মণ ধানের বাজার ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের তুলনাই চলতি বছর প্রতি মণে ২০০ টাকা কম পাচ্ছে কৃষক।

চলতি ২০২৫-২৬ আমন মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৫০ টাকা, আতপ চাল ৪৯ টাকা এবং ধান ৩৪ টাকা দরে কিনবে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি, এবং এই ধান ও চাল সংগ্রহ এ বছরে নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যার লক্ষ্যমাত্রা মোট ৭ লাখ টন। তবু সরকারের দেওয়া দরের প্রভাব পড়ছে না বাজারে। এক সপ্তহের ব্যবধানে বাজারে আবারও ধানের দাম নিম্নমুখী। এতে বড় লোকসানের শঙ্কায় তারা। তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালার চাষি সোলায়মান আলী জানান, প্রতি বিঘায় গড়ে ধান ফলন হচ্ছে কেজির মাপে ১৪-১৬ মণ করে। গত বছর হয়েছিল ১৮-২০ মণ। বিঘাপ্রতি উৎপাদন কমেছে, আবার বাজারে দামও কমেছে। পবার বড়গাছীর চাষি ইদ্রিস সরকার জানান, হঠাৎ করে ধানের দাম মণে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হবে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের ওপরে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক সাহা আলম। ১৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। মাঠে ধান ভালো থাকায় বুকে অনেক স্বপ্ন বেঁধেছিলেন তিনি। জমির ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে। সে হিসাব করে দেখেন তাঁর বিঘাপ্রতি ১৬ মণ করে ফলন হয়েছে। আর মহাজনকেই দেওয়া লাগবে প্রতি বিঘায় ১০ মণ ধান। যেটুকু থাকে বাজারে ধানের দরের যে অবস্থা তাতে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন না। গোদাগাড়ী উপজেলার চানন্দালায় গ্রামের কৃষক তসিকুল বলেন, চলতি বছর কীটনাশক প্রয়োগে আমন উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। এমনিতেই ফলন কম হচ্ছে তার পরে বাজারে ধানের দান পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে কীটনাশক দোকানে হালখাতা। ধান বিক্রি করে পরিশোধ করা লাগবে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ডিসেম্বর মাসে ধানের দাম একটু কম থাকে। তাই চাষিদের একটু ধৈর্য ধরে ধান বিক্রি করতে অনুরোধ করেন তিনি।
(সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

1

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

2

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতিতে জ্যোষ্ঠতা

3

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব : অর্থমন্ত্রী

4

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

5

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

6

এক উপজেলাতেই শতকোটি টাকার তুলা চাষ

7

‘বিএআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’র জন্য প্রতিবেদন আহ্বান

8

সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে

9

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

10

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

11

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

12

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

13

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

14

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

15

বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেন কৃষক দল সভাপতি তুহিন

16

বৈজ্ঞানিকভাবে মাছ চাষ খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

17

রফতানিমুখী বাণিজ্যিক কৃষি : উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ

18

বিদেশ নয়, এটা বাংলাদেশ,সমতলেই এখন সফল কমলা চাষ

19

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

20