কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খামারবাড়ির প্রভাবশালী বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের নেতারা এখন কে কোথায়?

কৃষি সময় প্রতিবেদক
দেশের কৃষিখাতের নীতি, সম্প্রসারণ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি। এখানে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এবং তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে (বর্তমানে খামারবাড়ির বাইরে)  দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। এর মধ্যে বিগত সরকারের আমলে ‘বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদ, খামারবাড়ি’ ছিল অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন। সংগঠনটির নথিপত্র ও কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। চারটি সরকারি সংস্থার কর্মচারীদের নিয়ে কমিটি হলেও এর বড় অংশজুড়ে ছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উইংয়ের কর্মচারীদের আধিপত্য। 


তৎকালীন কমিটির শীর্ষ দুই পদে ছিলেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. ফারুক হোসেন ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের গাড়িচালক মো. হুমায়ুন কবির লিটন। কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও ডিএইর প্রশাসন ও অর্থ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ, সরেজমিন, উদ্ভিদ সংগনিরোধ, হর্টিকালচার, প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা-বাস্তবায়ন ও আইসিটি এবং ক্রপস উইংয়ের কর্মচারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। ফলে কমিটির সাংগঠনিক শক্তির বড় অংশ ডিএইকেন্দ্রিক ছিল বলে নথি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়।


সংগঠনটির পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উর্দ্ধতন হিসাবরক্ষক সৈয়দ রেজাউল করিম, এস এম এস আজম ও মো. হাবিবুর রহমান, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের গাড়িচালক শ্রী মাখন চন্দ্র দেবনাথ।


পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি ছিলেন ডিএইর উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. ফারুক হোসেন। সহসভাপতি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. গিয়াস উদ্দিন, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সঞ্জিত কুমার ভৌমিক, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের গাড়িচালক মো. তোরাব আলী এবং সরেজমিন উইংয়ের অফিস সহায়ক মো. লুৎফর রহমান।


সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের গাড়িচালক মো. হুমায়ুন কবির লিটন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের অফিস সহায়ক মো. আবদুল মতিন। সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন হর্টিকালচার উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. আব্দুস সালাম এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের সাঁটলিপিকার মর্জিনা খানম (হ্যাপী)।


সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. শেখ ফরিদ। সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী রীনা আক্তার, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের গাড়িচালক মো. আলমগীর হোসেন এবং তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নাঈম সরকার।


দপ্তর সম্পাদক ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. আবুবকর মাতুব্বর এবং সহদপ্তর সম্পাদক প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. মাহিন ইসলাম। অর্থ সম্পাদক ছিলেন প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. নাজমুল হুদা। প্রচার সম্পাদক ছিলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের স্টিচিং অপারেটর মো. রুবেল মিয়া এবং সহপ্রচার সম্পাদক প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন।


শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন প্রশিক্ষণ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. আব্দুস সাত্তার এবং সহসম্পাদক উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অফিস সহায়ক মো. বুলবুল ইসলাম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম। ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের প্রধান সহকারী মো. লুৎফর রহমান। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের উচ্চমান সহকারী নাসরিন আক্তার এবং সহমহিলা বিষয়ক সম্পাদক প্রশিক্ষণ উইংয়ের উচ্চমান সহকারী নিগার সুলতানা।


কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যেও ডিএইর বিভিন্ন উইংয়ের কর্মচারীদের আধিপত্য ছিল। প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ব্যক্তিগত সহকারী মো. দিদারুল আলম রাসেল, গার্ডেনার মো. রবিউল ইসলাম, গার্ড মো. আবুল হোসেন, গার্ড ফজলু, পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. ওমর আলী, অফিস সহায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন, গাড়িচালক মো. আবুল কালাম-১, শ্রী প্রভাত কুমার সাহা, মো. নজরুল ইসলাম, শ্রী প্রদীপ কুমার পাপ্পু, মো. কাওসার ইসলাম শ্যামল, মো. তারেক আজিজ, মো. ফরিদ উদ্দিন প্যাদা, মো. ওহিদুল ইসলাম রোমান এবং মো. ইব্রাহিম কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে ছিলেন।


প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের আরেক সদস্য ছিলেন গাড়িচালক মো. শরিফ মিয়া। একই উইংয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শ্রী সাগর ও শ্রী সঞ্জিত কুমারও কমিটিতে ছিলেন।


উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, অফিস সহায়ক মো. বিলাল হোসেন এবং গার্ড মো. খায়রুল আলম। উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের সদস্য ছিলেন উচ্চমান সহকারী মো. আমান উল্লাহ ও মো. শামীম আকন্দ।


সরেজমিন উইংয়ের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন উচ্চমান সহকারী শিখা রানী তেওয়ারী। হর্টিকালচার উইংয়ের সদস্য ছিলেন গাড়িচালক মো. আবুল কালাম-২। পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের সদস্য ছিলেন গাড়িচালক মো. কামরুজ্জামান। ক্রপস উইংয়ের সদস্য ছিলেন উচ্চমান সহকারী মারফুয়া আক্তার।


কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকেও কমিটিতে ছিলেন একাধিক কর্মচারী। সহসভাপতি সঞ্জিত কুমার ভৌমিক ও প্রচার সম্পাদক মো. রুবেল মিয়া ছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন সেলস ম্যানেজার মো. ফখরুল ইসলাম, অফসেট প্লেট মেকার মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী, গাড়িচালক মো. মতিউর রহমান এবং বুক বাইন্ডার মো. শফিকুল ইসলাম।


কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন সহসভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। এ সংস্থার সদস্য হিসেবে ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোহাঃ মুনমুন সুলতানা, সালেহা আক্তার (লাবনী) এবং ক্যাশিয়ার মো. রাজু মোল্ল্যা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন নাঈম সরকার। সদস্য ছিলেন অফিস সহায়ক মো. মোশারফ হোসেন ও মো. নাসির উদ্দিন।


কমিটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসন ও অর্থ উইং থেকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বাইরে উপদেষ্টা, সহসভাপতি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সহদপ্তর সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক ও সহপ্রচার সম্পাদকসহ বিপুলসংখ্যক সদস্য যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি এই উইংয়ের পরিবহন ও লজিস্টিকস সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এ কারণে প্রশাসন, হিসাব ও পরিবহন ঘিরে একটি শক্ত সাংগঠনিক বলয় কমিটির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে ধারণা পাওয়া যায়।


উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়েও ছিল সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ছাড়াও এ উইংয়ের একাধিক কর্মচারী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির লিটনের কর্মস্থল উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়েও উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। সরেজমিন উইংয়েও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে কর্মচারীরা ছিলেন।


তবে ২০২২ সালের এই কমিটির সঙ্গে ২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতার কতটা মিল রয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। চার বছরে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি, সংযুক্তি, অবসর কিংবা অন্য কোনো কারণে কমিটির সদস্যদের কর্মস্থল ও দায়িত্বে পরিবর্তন হয়েছে কিছুটা। কেউ কেউ আবার অবসরেও গেছেন। ফলে তৎকালীন তালিকায় থাকা কোনো ব্যক্তিকে তার আগের পদ বা কর্মস্থলেই বর্তমানে কর্মরত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।


বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারী সংগঠনের অনেক নেতাই পরবর্তী সময়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন এবং কেউ কেউ বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে সুবিধাজনক পদায়ন বা দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কার ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের বর্তমান কর্মস্থল, পদায়ন ও বদলির সরকারি নথি যাচাই করা জরুরি।


পরবর্তী পর্বে থাকছে— বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কাদের হাতে?


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাচায় কুমড়া চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

1

কাঁচা মরিচের দাম নেমেছে ১০০ টাকায়

2

২৫ ডিসেম্বর দেশে আসছেন তারেক রহমান

3

কৃষি খাতে স্থবিরতা

4

লাউ চাষে সফল কৃষক কামরুল

5

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

6

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিনার জাত বিষয়ে নির্দেশনা

7

হ্যাচিং এগ রপ্তানী শুরু

8

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

9

বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চেক

10

লক্ষীপুরে নির্মাণ হবে বাফার গুদাম

11

শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির অপরাধে ২০ জনের নামে মামলা

12

ধান ক্ষেতের আইলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ

13

লোহাগড়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগ

14

সাত অবৈধ বাঁধ অপসারণ

15

তরুনদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অব্যবহৃত জলাশয় বন্টন করা হবে-প্

16

লাম্পি স্কিন ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে সার্ক দেশগুলোর প্রশিক্ষণ শুরু

17

জামালপুরে ১৬ বস্তা ঘোড়ার মাংস জব্দ

18

দেশের তিন পাটকল আবার চালু হচ্ছে

19

আরডিএর ৫ বছর মেয়াদী বৃক্ষরোপণ

20