শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ ডিলার সহ ২০ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। তারা সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার সার অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন।
শেরপুর সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হচ্ছেন- মো. রাসেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাসেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল করিম, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।
থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগ মামলার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।
অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি সার (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি সার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।
এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করা হয়। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হন।
জানা যায়, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এ নিয়ে মামলা করা হয়।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ১৫ ডিলার ও তাদের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
কৃ/স/জয়