ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের ১২টি নদ-নদী এখন কচুরিপানার দখলে। ঘন কচুরিপানায় এসব নদী অস্তিত্বই চোখে পড়ছে না। এতে পানি প্রবাহ ব্যাহত সহ জলজ জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
ঝিনাইদহের ওপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ, বেগবতী, কালীগঙ্গা, কোদলা, গড়াই, ডাকুয়া নবগঙ্গা, কুমার, চিত্রা, ভৈরব, বেতনাসহ ১২টি নদ-নদীর বেশিরভাগ এখন কচুরিপানায় ভরপুর। পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানা থাকায় নৌ চলাচল সহ পানি প্রবাহ বিঘ্ন ঘটছে। উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা মাসের পর মাস এসব নদীতে জমে থাকছে। নিয়মিত অপসারণ না হওয়ায় কচুরিপানার নিচে পলি জমে নাব্যতা কমছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছে। নদীর পানি স্থির হয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক এলাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রব।
নদীগুলোর এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ভৈরব নদীর জেলে আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আগে জাল ফেললেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছ অনেক কমে গেছে। কচুরিপানার কারণে জাল ফেলতে সমস্যা হয়, অনেক সময় জাল ছিঁড়েও যায়।’
কালীগঞ্জ উপজেলার তৈলকুপী গ্রামের বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, ‘আগে সারা বছর নদীতে ডোঙা চলত। এখন কচুরিপানায় নদী এমনভাবে ঢেকে থাকে যে অনেক সময় পানিই দেখা যায় না। বর্ষায় পানি নামতে দেরি হয়, ফলে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।’
আরেক জেলে বিপুল হোসেন বলেন, ‘কচুরিপানার ঘন স্তরের কারণে সূর্যের আলো পানির নিচে পৌঁছতে পারে না। এতে পানিতে অঙ্েিজনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হয়।’
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, ‘আমরা মূলত নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় স্থানে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করি। মাছের ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের আওতাভুক্ত।’
ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অভিজিৎ শিল বলেন, ‘কচুরিপানার কারণে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কৃ/স/জয়