কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রঙ্গিন মাছ চাষে ইমনের ভাগ্য বদল

পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ 
সখ থেকে নিজ বাড়িতে রঙ্গিন মাছের খামার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন পটুয়াখালীর তরুন উদ্যোক্তা মেহরাব ইমনের। এই মাছের খামারে মাধ্যমে প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ টাকা। যার মাধ্যমে তিনি নিজের ভাগ্য বদলেছেন। সফল এই উদ্যোক্তার বাড়ি পটুয়াখালী পৌর শহরের কলাতলা এলাকায়।

এখানে বাড়ির আঙিনায় ইমন গড়ে তুলেছেন রঙিন মাছের ব্যতিক্রমী খামার। যেখানে সারি সারি প্লাস্টিকের বোতল ও জারে খেলা করছে নানা রঙের বেটা, মলি, গাপ্পি, সোর্ডটেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। লাল, নীল, হলুদসহ নানা রঙের মাছের সমারোহে পুরো খামারজুড়েই যেন উৎসবের আমেজ।

জানা যায়,২০২১ সালে ইমন নিজ বাড়িতে সখের বসে বেটা মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথমে পাঁচ জোড়া মাছ কেনেন। পরের বছর পৈতৃক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে খামার গড়ে তোলার শুরুতেই বড় ধাক্কা খান। পরিচর্যার অভিজ্ঞতা না থাকায় মারা যায় প্রায় সব মাছ। তবে ব্যর্থতায় দমে না গিয়ে অনলাইন থেকে বিভিন্ন তথ্য ও কৌশল শিখে নিজেই শুরু করেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাছ মারা যাওয়ার হার কমে আসে এবং উৎপাদন বাড়তে থাকে।

বর্তমানে ইমনের খামারের বোতল ও জারে রয়েছে হাজারো রঙিন মাছ। ফাইটার, মুন টেইল মলি, রোজ টেইল, ফেদার টেইল, গোল্ডফিশ, হাফ মুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন তিনি। ডিম থেকে মাছ বড় হয়ে বিক্রির উপযোগী হতে সময় লাগে প্রায় চার মাস।

প্রজাতি ও মানভেদে তার খামারের এক জোড়া মাছ ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। পাইকারিতে ১০০ মাছ বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায়। খামারে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এখন বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের রঙিন মাছ উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

খামারের এসব মাছের খাবারের পেছনে মাসে খরচ হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। যার বড় একটি অংশ নিজেই উৎপাদন করেন ইমন।

এই খামারের মাছ এখন শুধু পটুয়াখালীতে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি করছেন ইমন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বাগেরহাট, বগুড়া ও রাজশাহীর ক্রেতারা নিয়মিত মাছ কিনছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে জীবন্ত রঙিন মাছ। অনলাইনে বিক্রির কারণে পটুয়াখালীতে বসেই দেশের বড় বাজারে পৌঁছাতে পারছেন তিনি।

মাছের খামারের উদ্যোক্তা মেহরাব ইমন জানান, শখ থেকেই পাঁচ জোড়া মাছ কিনে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রথম দিকে অনেক মাছ মারা যায়। তখন বুঝতে পারি, শুধু মাছ কিনে রাখলেই হবে না, পানি, খাবার, তাপমাত্রা সহ সবকিছুই বুঝতে হবে। এখন আর সমস্য হয়না। সবকিছু সহজ হয়ে গেছে। 

তিনি আরো বলেন,অনলাইনে আসার কারণে ব্যবসাটা অনেক সহজ হয়েছে। আগে শুধু স্থানীয়ভাবে মাছ বিক্রি করার সুযোগ ছিল। এখন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার আসে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা অনলাইনে মাছ পছন্দ করে অর্ডার করেন। পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিই। তবে জীবন্ত মাছ পাঠাতে হলে প্যাকেজিং ও পরিবহনের বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন,মেহেরাব ইমন মৎস্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত মৎস্য চাষি। তার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বর্তমানে রঙিন মাছ চাষে তরুণদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ আত্মকর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা পেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহেশপুরে রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড়ে ভোগান্তি

1

ফ্ল্যাট বিক্রি করে এমপির স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, কারাগারে ধান

2

পোল্ট্রি খামারিদের ঋণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

3

অসময়ের টমেটো চাষে তিন গুণ লাভ

4

কাজিপুরে ডিমের হালি ৫০ টাকা!

5

ইউএনওর কার্যালয় এখন পাখিদের আবাসস্থল

6

চালুর আগেই সৌর সেচের যন্ত্রাংশ চুরি

7

বিলে হাঁস পালনে তরুণদের কোটি টাকার ডিম উৎপদন

8

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে জানুয়ারিতে সচেতনামূলক কর্মসূ

9

হাওরের ধান যথাসময়ে কাটতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : কৃষ

10

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

11

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

12

পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাসা মওকুফ

13

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

14

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে চড়া মাছের বাজার

15

গুরুদাসপুরে পাটের বাম্পার ফলন হলেও দরপতনে হতাশ চাষিরা

16

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

17

৫০ প্রজাতির দেশি মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

18

চরের কৃষকের লড়াই ও সম্ভাবনার গল্প

19

তরুনদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অব্যবহৃত জলাশয় বন্টন করা হবে-প্

20