বগুড়া সংবাদদাতাঃ
দেশের বিভিন্ন জেলায় আধুনিক মানের কসাইখানা নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সুবিধা রয়েছে। এমন কসাইখানা আরো নির্মাণ করা গেলে এখান থেকে পশুর মাংস প্রয়িাজাত করে বিভিন্ন দেশের রপ্তানী করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় বগুড়াসহ দেশের ১৩টি জেলায় স্থাপন করা হয় আধুনিক কসাইখানা। প্রতি বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা প্রাণী বিক্রি করতে না পেরে বিপুল সংখ্যাক ডেইরি মালিক ও সাধারণ মানুষ বড় অঙ্কের লোকসান গুনছেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় মাংস নিরাপদ করার পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য করতে এসব আধুনিক কসাইখানা তৈরি করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া শহরের জয়পুরপাড়ায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা আধুনিক একটি কসাইখানা। এখানে প্রতিদিন ৪৫টি গরু, ছাগল ও ভেড়া জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। এখানে শতভাগ রোগ মুক্ত মাংস সংরক্ষণ করার সুযোগ আছে রেফ্রিজারেটরে। আধুনিক এসব কসাইখানায় মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে সময় লাগবে কম আর সাশ্রয় হবে অর্থের, সুযোগ সৃষ্টি হবে মাংস রপ্তানির।
বগুড়ায় নির্মিত কসাইখানাটি হস্তান্তর করা হয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ সাইদ আলী জানান, টেন্ডারের মাধ্যমে এ কসাইখানাটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন কমপক্ষে হাজার টাকা সাশ্রয় হবে গরুতে আর সময় বাঁচবে কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা। মাংস পরিবহনে বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রেফ্রিজারেটরে রাখা যাবে মাংস আর পরিবেশসম্মতভাবে করা হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।’ তিনি জানান, জবাই করার আগে যাচাই করা হবে প্রাণীটি রোগমুক্ত কিনা। ফলে অ্যানথ্রাকসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে বাঁচা যাবে।
দেশের ১৩ জেলায় নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কসাইখানা। প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ কোরবানির পশুর মাংস আন্তর্জাতিক মানে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্টি হবে নতুন সম্ভাবনা।
বগুড়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আধুনিক এসব কসাইখানায় প্রাণীর যেসব বর্জ্য পাওয়া যাবে সেসব কৃষি, পোশাক ও মেডিসিনসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাজে লাগবে, এক কথায় বলা যায় গরু-ছাগলের গোবর থেকে শুরু করে রক্ত-সবই প্রসেস করলে রপ্তানি করা যাবে। যেসব কসাইখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেগুলো চালু হলে দেশে যেমন নিরাপদ মাংস নিশ্চিত হবে একই সঙ্গে রপ্তানি করা সম্ভব হবে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা উদ্বৃত্ত গরু-ছাগলের মাংস আর তা সম্ভব হলেই বড় অঙ্কের লোকসান থেকে বাঁচবেন ডেইরি মালিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। গুনতে পারবেন লাভের অঙ্ক।
কৃ/স/জয়