কৃষি সময় ডেস্কঃ জাম থেকে রস বের করে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। আবর এর বিচিও বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। ঢাকার কাওরান বাজারে গড়ে উঠেছে এর প্রত্রিয়াজাত আড়ত।
জানা যায়, ঢাকার কাওরান বাজারে প্রতিদিন ৮-১০ টন জাম কেনা বেচা হয়। বর্ষা মৌসুম ট্রাকভর্তি এই জাম রাজশাহী, নাটোর, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর কিংবা পার্বত্য এলাকার বাগান থেকে আসে। এর একটি অংশ সরাসরি ফল হিসেবে বিক্রি হয়। তবে বাজারে বিক্রির পরেও প্রতিদিন কমবেশি প্রায় ২ টন জাম থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। সেই রস পরে বিভিন্ন জুস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, পাইকারি ব্যবসায়ী কিংবা রপ্তানিকারকদের কাছে পৌঁছে দেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
কারওয়ান বাজারে ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে গেছে দিনের ব্যস্ততা। এখানে বাঁশের ঝুড়িতে স্তূপ করে রাখা কালো-বেগুনি রঙের জাম। কোথাও মানুষ হাত দিয়ে বেছে নিচ্ছেন পাকা ফল। আবর কোথাও শ্রমিকরা পিষে বের হচ্ছে এর গাঢ় বেগুনি রস। একটু দুরেই রস ছাড়ানোর পর ঝুড়ি ভরে রাখা হয়েছে গোলাপি-রঙা বিচি। দিনভর চলছে এই কর্মযজ্ঞ।
জাম থেকে রস বের করে ব্যাগে ভরে বাঙ্ েসাজিয়ে রাখা হচ্ছে। সাথে অন্যদিকে জমা হচ্ছে বিচি। এসব জামের রস পাড়ি জমায় বিদেশে। আর বিচি থেকে যায় দেশের মাটিতে। এটি দেশের বাজারেই চড়া দামে বিক্রি হয়। এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ডায়াবেটিক সহ নানা রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয় জামের বিচি।
অধিকাংশ মানুষের কাছে জাম মানে মৌসুমি ফল কিংবা রাস্তার পাশের শরবত। কিন্তু কারওয়ান বাজারের একটি অংশে এই ফলের আরেক পরিচয় আছেÑএটি কাঁচামাল, এটি ব্যবসা, এটি শ্রমের ধারাবাহিকতা।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জামের এই রসের বড় অংশ চলে যায় জুস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা রপ্তানিকারকদের কাছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ফলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। দেশি ফলের প্রতি প্রবাসীদের আবেগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছেও জামের রসের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে মৌসুমি এ ফল এখন শুধু দেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রক্রিয়াজাত রূপে তা আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে।
কৃ/স/জয়