সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের নয় উপজেলায় চলতি মৌসুমেও বিভিন্ন জাতের আখের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। এই আখ থেকে স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরি করে চাষীরা ভাল লাভবান হন। এবারও তারা এ চাষাবাদ থেকে লাভের আশা করছেন।
জানা যায়,এ জেলায় চলতি মৌসুমে ৮০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষাবাদ হয়েছে। উল্লাপাড়া,সদর, কামারখন্দ, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলায় কমবেশি আখের চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে আখের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
এখানকার কৃষকদের মতে, আখ শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, এটি সিরাজগঞ্জের হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। আখ কাটার মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গুড়ের ভাটা চালু হয়। সেখানে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে আখের উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের পাশাপাশি গুড় উৎপাদক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
উল্লাপাড়া উপজেলার আখচাষি আব্দুল মালেক জানান, ‘এবার চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। শুরুতে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো ছিল। পরে কিছু গাছে মিলিবাগের আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেছি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত জাতের আখ চাষ, আধুনিক পরিচর্যা এবং রোগ-পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত জমিগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান,কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব রোগ-পোকা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আখের প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভেজালমুক্ত গুড়ের উৎপাদনও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
কৃ/স/জয়