কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাশরুম চাষে মানিকের মাসে আয় লাখ টাকা

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ  
মাশরুম চাষাবাদে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন আবু লাইস মানিক নামে এক প্রবাস ফেরত উদ্যোক্তা। নিজের বাড়িতে গড়া ‘মাশরুম বাড়ী’ নামে খামারে শুধু  মাশরুম চাষাবাদই নয়। তা দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে বাজারজাতের মাধ্যমে প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ টাকা। সফল এই উদ্যোক্তার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পৌর এলাকায়। 

জানা যায়,সৌদি প্রবাসে থাকাকালে একটি টিভিতে মাশরুম চাষের প্রতিবেদন দেখে এ চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হয় মানিকের। দেশে ফিরে ছোট ভাইয়ের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০০৯ সালে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১০০টি রেডিমেড স্পন প্যাকেট দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু করেন। এরপর ২০০ থেকে ৩০০টি স্পন প্যাকেট এনে উৎপাদন বাড়াতে থাকেন। পরর্বতীতে ময়মনসিংহ হর্টিকালচার সেন্টার থেকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ নেন মানিক। বসতঘরের ছোট জায়গায় থেকে যাত্রা শুরু করে এখন প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জায়গায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ করেছেন এই উদ্যোক্তা। 

মাশরুমের খামারে শ্রমিকদের পাশাপাশি মানিক ও তার পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত খামারে কাজ করেন। তার খামারে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মাসিক ছয় থেকে আট হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়।

এই মাশরুম খামারে স্পন প্যাকেট বসানোর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মাশরুম তোলা হয়। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত কাঁচা মাশরুম মেলে। যা বাজারে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।

খামার থেকে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে শুধু কাঁচা মাশরুম বিক্রি করেই। পাশাপাশি আয় বাড়াতে মাশরুম দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরি করছেন মানিক।
ভালুকা পৌর এলাকায় হোম ডেলিভারি ও অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাশরুম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভালুকা বাজারের পাঁচ রাস্তার মোড়ে প্রতিদিন ভ্যানগাড়িতে মাশরুমের চপ, বড়া ও রোল তৈরি করে বিক্রি করা হয়। 

যা থেকে প্রতিমাসে বাড়তি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এ ছাড়া নিজের খামারে মানসম্মত মাশরুমের বীজ বা স্পন উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন এই উদ্যোক্তা।

মানিক বলেন, আমার সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আমার খামার দেখতে আসেন এবং তৈরি খাবার খেয়ে প্রশংসা করেন।

‘সরকারিভাবে সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে শিক্ষিত বেকার যুবকরা মাশরুম চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারবে এবং দেশে বেকারত্ব অনেকাংশে দূর হবে। ভবিষ্যতে খামার বড় করে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূসরাত জামান বলেন, মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাবার। মাশরুম চাষও অনেক লাভজনক। এ দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। বসতঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। উপজেলায় বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে মাশরুম চাষ হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

1

দাউদকান্দিতে ১৮ কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ৪৬ কৃষি ব্লক

2

কারন ছাড়াই কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

3

পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজার চাঙ্গা

4

১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

5

কৃষককে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযো

6

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

7

বনে ফিরলো ২৪ পাখি

8

হাজার কোটি টাকার ছাড়াবে সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

9

বর্ষণে ১৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু

10

শিয়াল হত্যায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

11

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

12

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির

13

১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

14

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হার্ড লাইনে পরিবেশ অধিদপ্তর

15

মিল্ক ভিটার ৬৪৮ কোটির মেশিনারিজ কোন কাজেই আসছে না

16

পুকুরে বিষ দিয়ে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

17

ভারতীয় গরু-মহিষসহ ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

18

আল-আরাফাহ ব্যাংক ফিরিলো পুরোনো মালিকদের হাতে

19

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ তিন গভীর নলকূপ

20