তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ পশু পাখির প্রতি এক বিরল ভালবাসা স্থাপন করেছেন শরীফ খন্দকার নামে এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিদিন মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার শহরের বিভিন্ন স্থানে রেখে কয়েক শতাধিক অনাহারি পশু পাখিকে খাওয়াচ্ছেন। ওই পশু প্রেমীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে।
জানা যায়, শরীফ তাড়াশের টাওয়ারপাড়ায় নিজের বাড়ির সামনে পশুপাখিদের খাবার রাখার জন্য একটি বড় পাত্র স্থাপন করেন। সেখানে রান্না করা খাবার এবং উচ্ছিষ্ট খাবার নিয়মিত রাখার জন্য তিনি এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন। তার এ মানবিক আহ্বানে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট স্থানে ওই পাত্রে অনেকে খাবার রাখতে শুরু করেন। আর সেখান থেকে কুকুর, বিড়াল, মুরগি, ছাগল ও পাখিরা অনায়াসে খাবার খেতে পারছে।
এরপর তিনি আরো বেশি পশু পাখিকে এই সেবার আওতায় আনতে তাড়াশ পৌর এলাকার চারটি স্থানে পশুপাখির জন্য খাবারের পাত্র রেখেছেন। এসব পাত্রে এলাকার মানুষের রাখা উচ্ছিষ্ট খাবার খায় প্রতিদিন প্রায় দেড়শ কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুপাখি। সেই সঙ্গে বিভিন্নভাবে আঘাত পাওয়া কুকুর, বিড়ালের সেবা এবং আহত পশুপাখি উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
শরীফের ইতালি প্রবাসী ভাই খন্দকার গাউছুল ইসলাম শাহীন মাঝে মাঝে দেশে আসেন। তখন খাওয়ার পর তিনি বাড়ির সদস্যদের উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে না দিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিয়ে তা কুকুর, বিড়ালকে খাওয়াতেন। আর এ থেকেই শরীফের বোধ দয় হয়, মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার পশুপাখির জীবন বাঁচাতে পারে। সেই থেকে শুরু । এখন নিয়ম করে চলছে শরীফের সেই কার্যক্রম। যা পশু পাখি প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
তিনি ২০০৭ সালে তিনি প্রবাসী ছোট ভাই শাহীনের আর্থিক অনুদানে প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিলেজ ভিশন বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। ‘মানবতার কাজে সবার পাশে থাকা’ স্লোগান নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির পরিচালকও তিনি।
এই সংগঠনের মাধ্যমে তখন থেকেই তিনি পথশিশু, প্রতিবন্ধী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষ, বৃদ্ধ, অসহায় রোগাক্রান্তদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। একদল স্বেচ্ছাসেবী তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন। শরীফ খন্দকারকে এ কাজে আর্থিক সহযোগিতা করছেন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
২০২০ সালে করোনাকালে ‘আম জনতার হোটেল’ খুলে অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেন শরীফ। বর্তমানে ‘পাশে আছি আমরা’ নামে একটি সংগঠনের সহযোগিতায় তিনি প্রতি মাসে এক দিন ১০০ মানুষকে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করছেন।
এই পশু প্রেমী বজ্রপাতে প্রাণহানির রোধ করতে ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তাড়াশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে প্রায় ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ করেছে সংগঠনটি।
শরীফ খন্দকার জানান, তাড়াশের প্রতিটি মহল্লায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে উচ্ছিষ্ট খাবার রাখার ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আছে তার। যাতে ওই খাবার খেয়ে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুপাখি বাঁচতে পারে। এজন্য বিশেষ করে মহল্লার নারীদের বাসার উচ্ছিষ্ট খাবার রাখার জন্য অনুপ্রাণিত করছেন।
কৃ/স/জয়