কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা পাড় এখন ময়লার ভাগাড়

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা নদীর এখন ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ ময়লা আর্বজনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এর গন্ধে স্থানীয়দের অবস্থা কাহিল।

কাপাসিয়া উপজেলার বাজার সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিশাল এলাকাজুড়ে এখন ময়লার ডাম্পিং ষ্টেশনে পরিণত হয়েছে। উপজেলা সদর বাজার, কসাইখানা ও আশপাশের বাসাবাড়ির প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। নদীপাড়ে বিশাল এলাকাজুড়ে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে পচা সবজি, ফলমূল, মাছ ও মাংসের উচ্ছিষ্ট। কসাইখানার বর্জ্য, পশুর নাড়িভুঁড়ি, মুরগির বর্জ্য, আখের ছোবড়া, দইয়ের টালি, প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব পঁচা বর্জ্য সরাসরি নদীতে মিশে দূষিত করছে পানি। এতে একদিকে নদীর নাব্যতা কমছে। অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি। পাশেই রয়েছে ব্যস্ত খেয়াঘাট। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ পথ দিয়ে চলাচল করলেও দুর্গন্ধে অনেককেই নাকে রুমাল চেপে চলতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু বাজারের বর্জ্য নয়, প্রতিদিন একটি ভ্যানে করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসাবাড়ির ময়লাও এনে নদীর তীরে ফেলে রাখা হয়। বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য নদীতে মিশে পানির রং কালচে হয়ে যায়। নদীর তীরজুড়ে জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার অভিযোগ জানিয়েও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ীরা বলেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর স্বচ্ছ পানিতে এলাকার মানুষ গোসল করতেন। এখন শ্রীপুর ও ভালুকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্যরে পাশাপাশি কাপাসিয়া বাজারের ময়লা-আবর্জনাও নদীতে মিশছে। ফলে পানির রং পরিবর্তন হয়েছে। নদীতে নামলে শরীরে চুলকানি, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। আমরা দোকানে বসে থাকতে পারি না দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। কেউ কোন প্রতিবাদ করে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রিয়তুষ বলেন, বাজারে যারা কেনাকাটা করতে আসেন, তাদের অনেকেই দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত চলে যান। এতে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাজারের জন্য আলাদা বর্জ্য ফেলার জায়গা জরুরি।

পরিবেশবাদীদের মতে, নদীর তীরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের চেতনার পরিপন্থী। নদীকে বাঁচাতে বাজারভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পৃথক ডাম্পিং স্টেশন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, নদীর তীরে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাজারের ইজারাদার চাইলে অন্যত্র বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করতে পারেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নার্সভুক্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘নার্সসাব’র সাথ

1

রাজশাহীতে ১ বছরে ২৩ হাজার গাছ নিধন

2

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি

3

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

4

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজারের বেশি পানবরজ

5

বন্যপ্রাণীদের বন্ধু সীতেশ আর নেই

6

মধুপুরের বনভূমি পরিণত হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগানে

7

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

8

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

9

বিদেশি মুরগি পালনে স্কুল শিক্ষকের সাফল্য

10

ফরিদপুরে খামারিদের মাঝে মিল্কিং মেশিন বিতরণ

11

চলনবিলের তাজা মাছ, সূর্য ওঠার সাথে সাথেই জমে ওঠে আড়ৎ

12

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

13

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

14

হাজার কোটি টাকার ছাড়াবে সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

15

লাউ চাষাবাদে কলেজছাত্র শান্তের সাফল্য

16

কৃষি সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন রফিকুল ই মোহামেদ

17

আলো ছড়াচ্ছে যমুনাপাড়ের সোলার পার্ক

18

আখের ভাল ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

19

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

20