চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ টানা বৃষ্টি আর অসময়ের বন্যায় ক্ষত বিক্ষত চট্রগ্রামের কৃষি খাত। এখানকার সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয় বাঁশখালী উপজেলায়। দুর্যোগে এই উপজেলায় প্রায় ২৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫৫ কোটি টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৪৪৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি- ১ হাজার ১০০ হেক্টর, আউশ ধান- ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর, আমন বীজতলা- ৫৫ হেক্টর, পেঁপে- ২০ হেক্টর, আদা- ২০ হেক্টর, পান- ১০ হেক্টর, হলুদ- ৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এমন অবস্থায় কৃষকরা তাদের চাষাবাদের সবজি এবং ফসল হারিয়ে এখন চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এই ক্ষতি তারা কিভাবে পুষিয়ে উঠবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। নতুন করে আবার চাষাবাদ করার জণ্যও তাদের হাতে নেই কোন অর্থ। এমন অবস্থায় তারা আশা করছেন সরকার ক্ষতিগ্রস্থদের প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করবেন। আর তা দিয়ে তারা নতুন করে আবার চাষাবাদ করবেন।
অধিকাংশ সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় এখানকার বাজারে আকাল দেখা দিয়েছে শাক-সবজির। ফলে বাজারে এখন সবজির দাম বেড়েছে।
স্থানীয় সবজি চাষী আবদুল আলীম বলেন, আমার কাকরোল খেতের অধিকাংশই পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যে টুকু অবশিষ্ট ছিল তা বাজারে তুলে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, সরকারি প্রাথমিক হিসাবে উপজেলায় ২৬ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
কৃ/স/জয়