পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের বৈঠাকাটা,বেলুয়া নদীতে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট। নদীর বুকে ভেসে থাকা শত শত নৌকার উপর চলে সব রকম পণ্যের কেনা-বেচা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন হাটে। এখানে সবকিছুই হয় নদী কেন্দ্রীক। শত বছর ধরে চলে আসা এই হাট এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র।
পিরোজপুর নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া নদীর বৈঠাকাটা গড়ে উঠেছে ভাসমান হাট। স্থানীয়দেরমতে শত বছর ধরে চলে আসছে এই হাট। এটাকে বিবেচনা করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নদীভিত্তিক হাট। বেলুয়া নদীর মোহনায় দূর থেকে তাকালে মনে হবে এখানে গড়ে উঠেছে থাইল্যান্ডের মতো কোনো ভাসমান বাজার। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে।
এখানে ভোরের আলো যখন বেলুয়া নদীর শান্ত জলে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই নীরবতা ভেঙে ভেসে আসে শতাধিক নৌকার ডাক। নদীর বুকে যেন বেজে ওঠে এক অপূর্ব সংগীত। মাঝির বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, ট্রলারের ইঞ্জিনের চিৎকার, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর ঢেউয়ের তালে জেগে ওঠে জনপদ। শত শত নৌকা আর ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখলে মনে হবে নদীর বুকে ছোট একটি গ্রাম।
নাজিরপুর উপজেলার আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নদী পথে নৌকা,ট্রলারে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা হাটে কেউ আনছেন শাকসবজি, কেউ চাল-ডাল, কেউবা মাছ, হাঁস-মুরগি। সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় এখানের বেচাকেনা। কৃষিপণ্যের ওপর গড়ে উঠেছে ভাসমান এ বাজার। বৈঠাকাটার আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা এসে কেনেন এ পণ্য। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন এ হাটে। এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ বাহন নৌকা। তাই এ নৌকাতেই গড়ে উঠেছে ভাসমান এ বাজার।
এই হাটে সবজি, চারা, নাশতা থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যÑসবকিছু বেচাকেনা চলে নৌকার ওপরই। এ হাট এখন শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্রই নয়; বরং এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান আর বাজার ব্যবস্থায় প্রধান মাধ্যম এ হাট। ফলে বেলুয়া নদী শুধু নৌকা বয়ে আনছে না, নিয়ে আসছে নানা মানুষের জীবনের গল্প। চাষী, ব্যবসায়ী, মাঝি, খেটে খাওয়া মানুষের সংস্থান নির্ভর করে এ বহমান স্রোতেই। হাটবারে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ নদী বদলে যায় এক প্রাণচঞ্চল বাজারে। বর্ষায় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত, আর শীতে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে লেনদেন। শত বছরের এ ভাসমান বাজারকে অ্যাগ্রো ইকো ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের।
সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, ‘যত প্রকারের সবজি আছে সব এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। এছাড়া সবজি ও সবজির চারা বিক্রি হয়।’
নারকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারকেল ও ডাব এখানে বিক্রি করতে আসেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের থেকে কিনে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোকামে পাঠাই। এখানে সবাই নৌকায় করে পণ্য নিয়ে আসেন।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের বৈঠাকাটার ভাসমান বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চারাসহ কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়। ভাসমান বাজারে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররা এসে পণ্য কিনে নিয়ে যান। বাজারটিকে অ্যাগ্রো ইকো ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা নিয়ে জেলা কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
’
কৃ/স/জয়