কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বৃষ্টিতে কোটি টাকার সবজির চারা নষ্ট

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরে ভারি বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সবজি চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নানা চেষ্টায়ও তারা চারা রক্ষা করতে পারেননি। এতে তাদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোকশান কাটিয়ে উঠতে তারা সরকারি প্রণোদনার দাবী জানান। 

যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামটি সবজি চারার জন্য বিখ্যাত। এখানকার চাষীরা বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি করেন। চার দশকেরও বেশি সময় আগে এখানে এ কারবার গড়ে ওঠে। কিন্তু এবার টানা বৃষ্টিপাতে ৭০ বিঘা জমির পাতাকপির অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বেগুন, টমেটো, ফুলকপি ও ঝালসহ অন্যান্য সবজির চারা এবং সদ্য রোপণ করা বীজ পচে গেছে। ধারদেনা করে তারা চারা উৎপাদন করলেও এই দুর্যোগে সব শেষে হয়ে গেছে। 

সরজমিনে দেখা যায়, মেঘ দেখলেই চাষীরা বাঁশের খুঁটিতে পলিথিন বেঁধে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে মাঠের বহু বেড চারা নষ্ট হয়ে খালি পড়ে আছে। যেগুলো আছে, সেগুলোর অবস্থাও করুণ।

আব্দুলপুর গ্রামের চারা উৎপাদনকারীরা জানান, তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছেন। চারা নষ্ট হওয়ায় কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাথার ওপর ঋণের বোঝা বাড়ছে। চাষীদের অভিযোগ, আব্দুলপুর মাঠের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অনেক ছোট ও অপ্রশস্ত। এ কারণে বছরজুড়েই সেখানে জলাবদ্ধতার সংকট থাকে।

আশরাফুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একটি বেড তৈরিতে সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ মিলে ৪ হাজার টাকার বেশি লাগে। বর্তমানে পাতাকপির এক প্যাকেট বীজের দামই ৯০০ টাকা।

জাকির হোসেন নামে এক চাষী বেডে অবশিষ্ট থাকা চারাগুলো দেখিয়ে জানান, এগুলোর গোড়াও পচে গেছে। দু-একদিনের মধ্যে মরে যাবে। এ চারা কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ‘৯০টি বেডের বেশির ভাগ চারার গোড়া জলাবদ্ধতায় পচে গেছে। রোপণ করা সব বীজও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

এখানকার মাঠে মাঠে সবজির চারা উৎপাদনকারীরা এভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতা তাদের স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষতি তারা কিভাবে পুশিয়ে নেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। আশা করছেন সরকারি সহায়তা পেলে আবার নতুন করে কিছু করতে পারবেন। 

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অপ্রশস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। মাঠে পানি জমার খবর পেয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি আরো জানান, আব্দুলপুরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাল খনন শেষে ফেরত দেয়া হলো ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

1

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

2

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি পরিদর্শনে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম

3

হরিণের মাংস সহ আটক এক

4

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

5

৫০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

6

নাটোরে বারনই নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে

7

সীড এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মাসুম, সম্পাদক সোপান মালিক

8

বাগেরহাটের ঢেঁড়স চাষীরা হতাশ

9

সার ছোলা ও রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার

10

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২,৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

11

ছোট ফেনী নদীর ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

12

পচে গেল ৩০ হাজার মণ মজুদ করা আলু

13

সারাদেশে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

14

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

15

চুয়াডাঙ্গায় আনারকলি চাষে সাফল্য

16

রক মেলন চাষে কামরুজ্জামানের স্বপ্ন

17

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে চড়া মাছের বাজার

18

সোনামসজিদ দিয়ে এলো ১১৮ টন কাঁচা মরিচ

19

কালীগঞ্জের কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

20