বরগুনা সংবাদদাতাঃ
ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ভেষজ ও পুষ্টিকর গাব ফল এখন দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে গাছ কেটে ফেলায় বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়রা বলছেন,বিদেশি ফলের প্রতিযোগিতা,বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমে যাওয়ায়, বনভূমি উজাড়, অযত্ন, পুরনো গাছের বংশবৃদ্ধি না হওয়া, কৃষিজমির সংকোচনের ফলে দেশীয় এই ফলটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম জনপদ থেক।
জানা যায়,এ উপজেলা বেতাগী সদর, হোসনাবাদ, মোকামিযা, বুড়ামজুমদার, কাজিরাবাদ ও সরিষামুড়ি, বিবিচিনি সহ ৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত। এখানকার ঝোপঝাড়, বনজঙ্গল, খালপাড় কিংবা বাড়ির আঙিনায় এক সময় সহজেই গাবগাছ দেখা যেত। বর্ষা এলে ডালে ডালে ঝুলে থাকা গোলাকার সবুজ ফল- পাকার পর হলুদাভ বা কালচে রঙ ধারণ করত। শিশু-কিশোররা গাছ থেকে পেড়ে বা নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে খেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই পরিচিত দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। আধুনিক ফলের বাজারে স্থান হারিয়ে গাব যেন নিঃশব্দে বিদায় নিচ্ছে এখানকার প্রকৃতি থেকে।
বেতাগী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবীণ আব্দুল মজিদ হাওলাদার বলেন, ‘বাজারে কিনে খাওয়ার চেয়ে গাছ থেকে পেড়ে খাওয়ার আনন্দই ছিল বেশি। আম, কাঁঠাল ও জামের পাশাপাশি গাবও ছিল শিশুদের প্রিয় ফলের তালিকায়। বিশেষ করে বিদ্যালয় ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে গাব কুড়ানোর স্মৃতি আজও অনেকের মনে রয়ে গেছে।
বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকতা সানজিদ আরা শাওন জানান, গাব একটি দেশীয় ফল, এটি মূলত জলাভূমি ও আর্দ্র পরিবেশে ভালো জন্মে। গাছটি আকারে বড় এবং দীর্ঘজীবী। বছরের অধিকাংশ সময় সবুজ পাতায় ভরপুর থাকে এই গাছ। বর্ষাকালে ফল ধরতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তা পরিপক্ব হয়। গত কয়েক দশকে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে এ গাছের বিস্তারও কমে গেছে। তবে উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় সেই হারিয়ে যাওয়া ফল ফিরছে মানুষের কাছে।
কৃ/স/জয়