কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উদ্বোধনের পরেই বন্ধ বর্জ্য শোধনাগার

নেত্রকোনা সংবাদদাতাঃ 
নেত্রকোনায় পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন রাখার জন্য পৌর এলাকায় ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে নিমার্ণ করা হয়  বর্জ্য শোধনাগার। এটি উদ্বোধনের পর দিনই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই স্থাপনাটি এখন রুপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। যার দুর্গন্ধে এখন স্থানীয়দেও টেকাই দায় হয়ে পড়েছে। 

জানা যায়, নেত্রকোনা পৌর শহরের বাহিরচাপড়া এলাকায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২০ সালে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরিকল্পনা ছিল, পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে একদিকে জৈব সার তৈরি করা হবে, অন্যদিকে পচনশীল নয় এমন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইকেল) করে আয়ের পথ সুগম হবে। অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হলেও অজানা কারণে এর পরের দিন থেকেই থমকে যায় সব কার্যক্রম। সেই থেকে এটি বন্ধ আছে। 

প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় পুরো শোধনাগার এলাকাজুড়ে জমছে বর্জ্যরে স্তূপ। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ছড়িয়ে পড়া উৎকট গন্ধে সাধারণ মানুষের বসবাস একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিষিয়ে ওঠায় ইতোমধ্যে অনেকে ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় উঠতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এর স্থায়ী প্রতিকার চাওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই নেত্রকোণা পৌর শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪২ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। নির্ধারিত শোধনাগারটি অচল হয়ে পড়ে থাকায় এসব বর্জ্যরে বড় অংশই ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়, যা পুরো শহরের জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ তুলে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে শোধনাগার করা হলো, তা উল্টো জীবনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত দুর্গন্ধ যে ঘরে টেকাই দায়। প্রকল্পটির পেছনের অনিয়ম তদন্ত করা এবং দ্রুত এটি চালু করার দাবি জানান তারা।

রুমেল খাতুন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এই এলাকায় থাকতে খুব অসুবিধা হয়। মাছি ও দুর্গন্ধের কারণে বাচ্চাদের খাবার দেওয়া যায় না, খাবারের ওপর শত শত মাছি এসে বসে। দুর্গন্ধের কারণে বাচ্চারা প্রায় সময় অসুস্থ থাকে, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারে না এবং স্কুলে যেতে পারে না। মো. ফৌজদার মিয়া নামের এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, এখানে ময়লা ফেলার জন্য নিষেধ করলেও তারা শোনে না। ময়লা ফেলায় শিয়াল-কুকুরের উৎপাতের কারণে চলাচল করা যায় না। এর মধ্যে কয়েকজনকে শিয়াল-কুকুরে কামড়েও দিয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এই জায়গাটা যেন পরিষ্কার করে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা জানান, সম্প্রতি আমি পৌরসভার দায়িত্ব নিয়েছি। স্পটটি সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, সেখানে যেভাবে প্রস্তাবনা ছিল বা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে কার্যক্রম হচ্ছে না।আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি এবং পরবর্তীতে যেন প্রকল্পটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় ও পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়, সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত থেকে আসা ১১.৫০০ টন চাল ফেরত যাচ্ছে

1

সুন্দরবনে ৩ দিনের বর্জ্য অপসারণ অভিযান

2

৭ টন নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ

3

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

4

১৫৫ কেজির কোরাল মাছ দেখতে ভিড়

5

নদীতে খাঁচায় রঙিন মাছ চাষাবাদ

6

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রী

7

আউশের ভাল ফলনেও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

8

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন

9

বনের গাছ চুরির হিড়িক

10

কুড়িয়ে পাওয়া শাকের মেলা

11

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

12

লংগান চাষে সাফল্য পেয়েছেন প্রিয়দর্শী চাকমা

13

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

14

আনারকলি চাষে মিঠুর ভাগ্য বদল

15

রাষ্ট্রপতির সাথে রুয়েট ও শেকৃবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

16

সাপের কামড়ে ১৩ জন হাসপাতালে

17

দেশি মাছ চাষ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রংপুরে চাষিরা

18

হাওড়ে ফসল হানি রোধ করবে ব্রি ধান-১১৮

19

১৬ মাস ধরে বন্ধ আগুগঞ্জ সার কারখানা

20