চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: বন্যার আগ্রাসী পানি নেমে গেলেও দুর্গত এলাকাগুলোতে রেখে গেছে ক্ষতচিহ্ন। মাঠের ফসল থেকে শুরু করে গোয়ালঘরের গবাদিপশু- সবখানেই এখন শুধু ক্ষত আর সংকটের ছাপ। তবে দুর্যোগের এই চরম মুহূর্তে অসহায় ও অবোলা প্রাণীদের চিকিৎসায় দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার। তাঁর মানবিক ও অনন্য উদ্যোগ বন্যাদুর্গত খামারিদের মনে আশা জাগিয়েছে।
এ উপজেলার বাড়ি ও ছোট ছোট খামারে ঘুরে ঘুরে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করছেন খোদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। বন্যাকবলিত এলাকায় তাঁর কাছ থেকে সরাসরি এই সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রান্তিক খামারিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোমর সমান পানি মাড়িয়ে, কখনো নৌকা আবার কখনো ভেলায় চড়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার পরিদর্শন করেছেন এই কর্মকর্তা। তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও তড়িৎ তৎপরতার কারণে উপজেলায় এবার বন্যায় কোনো গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেনি। তবে বন্যার আগ্রাসী থাবায় কয়েকটি পোল্ট্রি খামারের হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে এবং খামারে মজুদকৃত ফিড (খাদ্য) নষ্ট হয়ে খামারিদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন খামারি জানান, “একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কোমর সমান পানি মাড়িয়ে যেভাবে তিনি প্রতিটি খামারে ছুটে গেছেন তা সত্যিই বিরল। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে তাঁর এই নিরলস দায়িত্বশীলতা আমাদের সাহস জুগিয়েছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার বলেন: ”অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় মাঠ পর্যায়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা শতভাগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের জন্য আমরা ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।”
কৃ/স/জয়