নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ লেবু চাষাবাদ করে বাজিমাত করেছেন আলী আমজাত নামের এক কৃষক। তার বাড়ী নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারায়ণডহর গ্রামে। একসময় দিনমজুরি ও ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও লেবু চাষাবাদ করে তিনি নিজের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এমন সাফল্য স্থানীয়দের এ চাষাবাদে আগ্রহ জাগিয়েছে।
জানা যায়,এক সময় আমজাদ হোসেন গ্রামে ফেরি করে সবজি বিক্রি করতেন। মাত্র ৫ হাজার টাকা জমিয়ে নিজের ৪ শতক জমিতে শুরু করেন লেবু চাষাবাদ। দেশি জাতের এই লেবু চাষাবাদে প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় করেন।
এই সাফল্যেও পর তিনি পরের বছর ২০ শতাংশ জমিতে লেবুর বাগান বৃদ্ধি করেন। সেই বাগানে এখন ২৫০টি গাছ রয়েছে। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ২শ’থেকে ৩শ’ করে লেবু ধরে ঝুলে আছে। বাগান থেকে এ লেবু তুলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা হালিতে তিনি স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করেন। চলতি বছরে তিনি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। আশা করছেন এই বাগান থেকে আরো দেড় রাখ টাকার লেবু বিক্রি করা যাবে।
আলী আমজাদ জানান,লেবু বাগানের এই আয়ের টাকায় ইতোমধ্যে তিনি ৮ কাঠা জমি কিনেছেন। পাশাপাশি আধাপাকা তিনটি ঘর নির্মাণ করেছেন এবং ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। আমজাদের এই লেবু চাষের যাত্রা ২০১১ সালে।
আলী আমজাদের এমন সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ শুরু করছেন। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও এসব লেবুর চাহিদা বেড়েছে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফসল বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে উৎসাহী চাষীদের প্রকল্প সুবিধার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও উন্নত চাষাবাদে উৎসাহিত করা গেলে কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে। তখন হতদরিদ্র আলী আমজাদের মতো ভাগ্য পাল্টানোর খবর প্রতিটি গ্রাম থেকেই শোনা যাবে। একজন কৃষকই হতে পারেন আদর্শ পরামর্শক। একথা আবারও প্রমাণ করেছেন কৃষক আলী আমজাদ।’