কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মধুপুরের বনভূমি পরিণত হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগানে


টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শালবন মধুপুর বনাঞ্চল।  বাইরে থেকে এটিকে শাল বন মনে হলেও এর ভিতরে  বড় অংশ দখল করে করা হচ্ছে নানা ধরনের ফলের চাষাবাদ। একই সাথে বসতি সহ রাবার চাষের কারনে ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে এই বনাঞ্চল। 

জানা যায়, মধুপুর বনাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে বর্তমানে ৫৮টি বিদ্যালয়, ৩৮টি মাদ্রাসা, প্রায় ৪০টি বাজার এবং এক লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ জমিই বন বিভাগের মালিকানাধীন।

তবে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলা-রসুলপুর অংশে এখনো কিছু প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব টিকে আছে। এখানে শাল, বাঁশ, বেতসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং কিছু বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। লহরিয়া হরিণ প্রজননকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি হরিণ রয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর জাতীয় উদ্যান ৪ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০৪ প্রজাতির পাখি এবং ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মুখপোড়া হনুমানও এই বনাঞ্চলে বসবাস করে।

মধুপুরের গজারি বনভেদ করে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশ সবুজে ঘেরা মনে হলেও ভেতরে প্রবেশ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আর প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব নেই। বনভূমির জায়গায় গড়ে উঠেছে কৃষিজমি, বাণিজ্যিক বাগান ও বসতি।

মধুপুর উপজেলার পঁচিশমাইল থেকে কাইলাকুড়ী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখে পড়ে আনারস ও কলার বাগান। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক আগেও এসব জমি বন বিভাগের আওতায় ছিল। বর্তমানে এসব এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি, কৃষিকাজ এবং বাজার গড়ে উঠেছে
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, আশির দশকে প্রাকৃতিক শালগাছের পরিবর্তে বিদেশি প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া রোপণ এবং পরে রাবার বাগান সম্প্রসারণের ফলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সেইসব এলাকাতেও কৃষিজমি ও বাণিজ্যিক বাগান বিস্তার লাভ করেছে।

টাঙ্গাইল বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

1

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

2

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতিতে জ্যোষ্ঠতা

3

সাঁথিয়ায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

4

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

5

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

6

হাজার কোটি টাকার ছাড়াবে সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

7

এক গাছেই ধরেছে ১০ জাতের আম

8

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

9

সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে বারোমাসি মরিচ চাষে বাম্পার ফলনে

10

সীড এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মাসুম, সম্পাদক সোপান মালিক

11

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

12

ব্রি’র অর্গানিক সার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে ইউরিয়ার ব্যবহার

13

কৃষি সচিবের রুটিন দায়িত্বে নাসির- উদ-দৌলা

14

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

15

চরাঞ্চলের জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নে জাতীয় অগ্রাধিকার জরুরি

16

বাধ্যতামূলক অবসরে সচিব মিয়ান কৃষিতে রেখে গেছেন নিজস্ব বলয়

17

অবৈধ ইটভাটায় যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি

18

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

19

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

20