টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শালবন মধুপুর বনাঞ্চল। বাইরে থেকে এটিকে শাল বন মনে হলেও এর ভিতরে বড় অংশ দখল করে করা হচ্ছে নানা ধরনের ফলের চাষাবাদ। একই সাথে বসতি সহ রাবার চাষের কারনে ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে এই বনাঞ্চল।
জানা যায়, মধুপুর বনাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে বর্তমানে ৫৮টি বিদ্যালয়, ৩৮টি মাদ্রাসা, প্রায় ৪০টি বাজার এবং এক লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ জমিই বন বিভাগের মালিকানাধীন।
তবে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলা-রসুলপুর অংশে এখনো কিছু প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব টিকে আছে। এখানে শাল, বাঁশ, বেতসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং কিছু বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। লহরিয়া হরিণ প্রজননকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি হরিণ রয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর জাতীয় উদ্যান ৪ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০৪ প্রজাতির পাখি এবং ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মুখপোড়া হনুমানও এই বনাঞ্চলে বসবাস করে।
মধুপুরের গজারি বনভেদ করে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশ সবুজে ঘেরা মনে হলেও ভেতরে প্রবেশ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আর প্রাকৃতিক শালবনের অস্তিত্ব নেই। বনভূমির জায়গায় গড়ে উঠেছে কৃষিজমি, বাণিজ্যিক বাগান ও বসতি।
মধুপুর উপজেলার পঁচিশমাইল থেকে কাইলাকুড়ী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখে পড়ে আনারস ও কলার বাগান। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক আগেও এসব জমি বন বিভাগের আওতায় ছিল। বর্তমানে এসব এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি, কৃষিকাজ এবং বাজার গড়ে উঠেছে
।
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, আশির দশকে প্রাকৃতিক শালগাছের পরিবর্তে বিদেশি প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া রোপণ এবং পরে রাবার বাগান সম্প্রসারণের ফলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সেইসব এলাকাতেও কৃষিজমি ও বাণিজ্যিক বাগান বিস্তার লাভ করেছে।
টাঙ্গাইল বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।